মালয়েশিয়ায় ইসরায়েলি নাগরিক শনাক্ত হলেই বহিষ্কার

প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় ইসরায়েলি নাগরিক শনাক্ত হলেই বহিষ্কার

মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরায়েলি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

বুধবার (১৫ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইসরায়েলি নাগরিক মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছে-এমন অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়া ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং এ নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। যদি কোনো ইসরায়েলি নাগরিকের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তবে তাকে অবিলম্বে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিক জোহর রাজ্যে প্রবেশ করেছেন বা অবস্থান করছেন।

অভিযোগের পর জোহর রাজ্য সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ফরেস্ট সিটিতে পরিচালিত প্রযুক্তিভিত্তিক আবাসিক কমিউনিটি ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’-এর কার্যক্রম তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির একটি কর্মসূচিতে ইসরায়েলি নাগরিকদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

জোহরের মুখ্যমন্ত্রী দাতুক ওন হাফিজ গাজি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।

অভিযোগের পর মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম) ফরেস্ট সিটিতে অভিযান চালিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে বর্তমানে ৪০টি দেশের ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন।

অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, প্রাথমিক যাচাইয়ে সবার অভিবাসন-সংক্রান্ত কাগজপত্র বৈধ পাওয়া গেছে। তবে তারা প্রবেশের শর্ত ও ইমিগ্রেশন আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিচয় গোপন, ভ্রমণ নথি জালিয়াতি, অভিবাসন সুবিধার অপব্যবহার বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট