জৈন্তাপুরে ৫ দিনের অস্থায়ী পশুর হাট দেড় মাস পরও বহাল

প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬

জৈন্তাপুরে ৫ দিনের অস্থায়ী পশুর হাট দেড় মাস পরও বহাল

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল বাজার টি ৫দিনের জন্য অস্থায়ী কুরবানীর পশুরহাট হিসাবে সরকারি ভাবে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা নেন। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে দেড় মাস অতিক্রম হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছে পশুর হাটের বেচা কিনা। এব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন রহস্যজনক কারনে নিরবতা পালন করছে।

সরেজমিনে গত সোম ও মঙ্গলবার জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল বাজার ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে আলাপকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকরা জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৫দিনের জন্য অস্থায়ী পশুর হাট হিসাবে সরকারি ভাবে ইজারা নেয়া হয়। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার দেড় মাস পরও পশুরহাটটি বন্ধ করেননি সংশ্লিষ্ট ইজারাদার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সহ একটি প্রভাবশালী চক্র।

অস্থায়ী হাটের অনুমতি নিয়ে নির্ধারিত সময়ের পরও পেশি শক্তির ধারা অবৈধ ভাবে চিকনাগুল বাজারে নিয়মিত পশু কেনাবেচার মাধ্যমে হাসিল আদায় করে রসিদও দিচ্ছেন। ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব আর আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হচ্ছে এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র।

পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে জৈন্তাপুর উপজেলা সহ কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে নিয়ে আসা গরু-মহিষের হাসিলের মাধ্যমে বৈধতা দেয়া হচ্ছে। সরকার একদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে অপরদিকে চোরাচালানের পন্য বৈধতা পাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে উপজেলা বৈধ স্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদাররা।

জানা গেছে, গত ২১ মে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈদুল আজহা উপলক্ষে চিকনাগুল বাজারে ৫দিনের জন্য অস্থায়ী পশুর হাট ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। শর্ত অনুযায়ী ২৪ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত পশু বেচাকেনার অনুমতি দেওয়া হয়। সরকারি নির্ধারিত ইজারা মূল্য ছিল ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মসদ্দর আলীর ছেলে ইকবাল হোসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও চিকনাগুল বাজার কমিটির কয়েকজন ব্যাক্তির অংশীদারিত্বে হাটটি ৫দিনের ইজারা গ্রহণ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাটটি দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রতিদিন হাসিল আদায় করছেন। এ জন্য নিয়মিত রসিদও দেওয়া হচ্ছে। রসিদে কামাল আহমদের নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, চিকনাগুল পশুর হাটকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। গত ঈদে সরকারি ইজারায় মাত্র ৩ লাখ ১০ হাজার টাকায় হাটটি ইজারা গ্রহনের পর স্থানীয় ভাবে পূনরায় নিলাম ঢেকে পুরো বৎসরের জন্য ৫০ লাখ টাকায় হাটের নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনার অধিকার হস্তান্তর করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজেদের লোকজনকে মনোনীত করে এই অর্থ ভাগবাটোয়ারা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৫০ লাখ টাকা ২০ ভাগে বণ্টন করা হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো বিষয়টির নেপথ্যে রয়েছেন চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কামরুজ্জামান চৌধুরী। তাঁর নির্দেশনায় পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মসদ্দর আলী, তাঁর মেয়ের জামাই কামাল আহমদসহ কয়েকজন বর্তমানে হাসিল আদায় করছেন। হাসিলের রসিদেও কামাল আহমদের নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, অবৈধভাবে হাট চালু থাকায় চোরাই পথে আসা পশুর একটি অংশও সেখানে বিক্রি হচ্ছে। আলীরগাঁও ইউনিয়নের পশু ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, মহাসড়কের পাশে হওয়ায় ভারতীয় পশু সহজেই সেখানে বিক্রি করা যায়। নির্ধারিত ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাজার চালু থাকায় বর্তমানে এটি বৈধ নয়।

ঈদের অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদার ইকবাল হোসেন বর্তমানে প্রবাসে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কামাল আহমদ (কামাল মেম্বার) বলেন, হাট পরিচালনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। রসিদে তাঁর নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৫দিনের ইজারা নেওয়ার সময় অংশীদাররা তাঁর নাম ও নম্বর ব্যবহার করেছেন। তবে বিষয়টি মূলত ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরী দেখভাল করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।



এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি শুধু বলেন, “নিউজ করার দরকার নেই।”

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেন, চিকনাগুল হাটটি বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, এমন তথ্য তিনি পেয়েছেন। বিষয়টির বৈধতা যাচাইয়ের জন্য বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখনও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। কারা এবং কীভাবে হাট পরিচালনা করছে, তা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও হাট পরিচালিত হয়ে থাকলে এর বৈধতা, রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনিক তদারকি দ্রুত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগ গুলো নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট