সিলেটে উত্তরা ব্যাংকের একাউন্ট থেকে ব্যবসায়ীর ৫ লাখ টাকা উধাও!

প্রকাশিত: ১০:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৬

সিলেটে উত্তরা ব্যাংকের একাউন্ট থেকে ব্যবসায়ীর ৫ লাখ টাকা উধাও!

সিলেট নগরীর উত্তরা ব্যাংক আম্বরখানা শাখা থেকে এক ব্যবসায়ীর ব্যাংক একাউন্ট থেকে রহস্যজনকভাবে ৫ লাখ টাকা উধাও হয়ে গেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি কোনো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ বা ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করেন না, এমনকি ডেবিট কার্ডও নেই। তবুও মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ১০টি পৃথক লেনদেনের মাধ্যমে তার হিসাব থেকে ৪টি ব্যাংক হিসাব ও একটি বিকাশ নম্বরে ৫ লক্ষ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. লায়েক আহমদ সিলেট সদর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং সোনাতলা বাজার মাদ্রাসা মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী।

ভুক্তভোগীর ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, গত ১০ জুন রাত ৮টা ৬ মিনিট থেকে রাত ১১টা ৬ মিনিটের মধ্যে ১০টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংকের দুটি, ইসলামী ব্যাংকের দুটি হিসাব এবং একটি বিকাশ নম্বরে মোট ৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়।

লায়েক আহমদ জানান, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল তিনি উত্তরা ব্যাংকের আম্বরখানা শাখায় তার সঞ্চয়ী হিসাবে ৫ লাখ টাকা জমা রাখেন। পরে ১ জুলাই মোবাইলে সার্ভিস চার্জ বাবদ ১০০ টাকা কেটে নেওয়ার এসএমএস পেয়ে তিনি হিসাবের ব্যালেন্স যাচাই করে দেখেন, তার হিসাবে মাত্র ২ হাজার ৩৫ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে। পরদিন ২ জুলাই ব্যাংকে গেলে কর্মকর্তারা তাকে জানান, ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে ওই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে তিনি এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি কখনও ব্যাংকের কোনো অ্যাপ ব্যবহার করেননি এবং তার কোনো ডেবিট কার্ডও নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানিয়ে একাধিকবার ব্যাংক ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বরং বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। তার অভিযোগ, এ ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন।

ঘটনার পর তিনি সিলেটের কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

এ বিষয়ে উত্তরা ব্যাংকের আম্বরখানা শাখার ব্যবস্থাপক মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভিক্টিমকে আমরাই জিডি করতে বলেছি। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এ সংক্রান্ত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। উত্তরা ব্যাংকের পক্ষ থেকে টাকা ট্রান্সফার করা ব্যাংকগুলোর সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছে। পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। শীঘ্রই এর রহস্য উদঘাটন হবে।

তিনি বলেন, তদন্তের আগেই এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করা যাবেনা। তবে এর সাথে আমাদের ব্যাংকের কারও কোন যোগাযোগ নেই। এটি ভিক্টিমের স্বজন কিংবা হ্যাকারের কাজ হতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট