নরসিংদীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩

প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৬

নরসিংদীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় টেটাবিদ্ধ অবস্থায় আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় টেটাবিদ্ধ হয়ে ৩ জন নিহত হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর গ্রামসংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।

নিহত কাউসার মিয়া (৩৫) নিলক্ষা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শাহ আলম মিয়ার ছেলে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে টেটাবিদ্ধ করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে পানির স্রোতে ভেসে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মরদেহটি এসে পৌঁছায়।

মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, টেটাবিদ্ধ অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহটি রায়পুরা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেহেতু এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় মামলা হয়েছে, তাই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা তারাই গ্রহণ করবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিলক্ষা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে বুলবুল মিয়া এবং পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়া (২২)-এর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন গ্রুপ এবং আলাল মুন্সি গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া থাকা আলাল মুন্সি ও সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়ার অনুসারীরা মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটে করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে।

একই ঘটনায় বকুল মিয়ার ছেলে রাজু (২৮) ও অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা (৬০) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর একই বিরোধকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কুয়েতপ্রবাসী মামুন মিয়া (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিলেন। নিহত মামুন নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক ছিলেন। ঘটনার পর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট