৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২৬
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুই দিনে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পৃথক দুই ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঈদযাত্রার আগে এমন ধারাবাহিক দুর্ঘটনায় রেলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত শনি ও রোববার উপজেলার উত্তরসুর এলাকায় দ্বারিকাপাল মহিলা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন রেললাইনের পাশে এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
রেলপথ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৩টায় ঢাকাগামী জয়ন্তিকা আন্তঃনগর ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার এনামুল মিয়া ফাহিম (২৫) ও মো. সিয়াম (১৮) গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে অগ্নি নির্বাপণ ও উদ্ধার সেবা এবং রেলপথ পুলিশ তাদের উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ফাহিমকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সিয়াম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর একদিন পর রোববার বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে একই স্থানে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা আন্তঃনগর ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই ঘটনায় সামছু মিয়া (৩০) নামে আরও একজন আহত হন। তাদের বাড়ি রংপুর জেলায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, আহত সামছু মিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে শনিবার আহতদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর পর পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
শ্রীমঙ্গল রেলপথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুই ঘটনায় পৃথক অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় শনাক্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাছের ডাল, বৈদ্যুতিক তারে ধাক্কা লাগা বা অসাবধানতার কারণে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল স্টেশন মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বারবার সতর্ক করার পরও কিছু যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং জীবনঘাতী।
এদিকে ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। স্টেশনগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তা, নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে একই স্থানে পরপর প্রাণহানির ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও কীভাবে যাত্রীরা ট্রেনের ছাদে উঠে ভ্রমণ করছেন। কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।
সম্প্রতি নরসিংদীর ঘোড়াশাল এলাকায় বজ্রপাতে ট্রেনের ছাদে থাকা এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনাও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
রেলপথ কর্তৃপক্ষ আবারও যাত্রীদের ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রেনের ছাদে গাছের ডাল, সেতু, বৈদ্যুতিক তার, বজ্রপাত ও ভারসাম্য হারানোর মতো ভয়াবহ ঝুঁকি থাকে, যা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D