ওসমানীনগরে ১ কোটি ১২ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ, আটক ১

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২৬

ওসমানীনগরে ১ কোটি ১২ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ, আটক ১

সিলেটের ওসমানীনগর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ৬০৩ বস্তা জিরা উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, অদৃশ্য কারণে চোরাচালান সিন্ডিকেট চক্রের মূল হোতাদের এজাহারে আসামি করা হয়নি। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের আমলেও বিভিন্ন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দেদারছে ভারতীয় অবৈধ পণ্যের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অজ্ঞাত কারণে মাঝে মধ্যে দু-একটি চালান পুলিশ ধরলেও অধিকাংশ চালান গুলো পুলিশের নাকের ডগায় বিভিন্ন গন্তব্যে চলে যাচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এই অবৈধ ব্যবসায় ওসমানীনগরের বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালীরাও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে ওসমানীনগর থানার এসআই আশীষ চন্দ্র তালুকদারের নেতৃত্বে একটি একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিক্তিতে গোয়ালাবাজার ইউপির ব্রাম্মন গ্রামে আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হামিদের বসত বাড়ী থেকে ৬০৩ বস্তা অবৈধ ভারতীয় জিরা উদ্ধার করে। এ সময় উপস্থিতি টের পেয়ে ৭-৮ জন লোক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে আবুল কালাম আজাদকে আটক করা হয়।

আটককৃত আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বসত বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৬০৩ বস্তা ভারতীয় জিরা পাওয়া যায়। প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি করে মোট ১৮ হাজার ৯০ কেজি জিরা ছিল। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আসামি কালাম স্বীকার করেছেন যে, তিনি তার পলাতক ভাই আব্দুল মুমিন সহ অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ভাবে জিরা বাংলাদেশে আনছিলেন।

এ ব্যাপারে ওসমানীনগর থানার এস আই আশিষ চন্দ্র বাদী হয়ে কালাম ও তার ভাই আব্দুল মুমিন সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওসমানীনগর থানার ওসি মুরর্শেদুল আলম ভুইয়া বলেন, এই ঘটনায় আটককৃত আবুল কালাম আজাদ, পলাতক আব্দুল মুমিন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। কালামকে বুধবার সিলেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট