১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:২১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এক গৃহবধূ সৌদি আরবে গিয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম আকলিমা খাতুন (৩২)। তিনি উপজেলার চৌমুনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তার পাসপোর্ট নম্বর A18462948।
জানা গেছে, আর্থিক অনটনে পড়ে ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও স্থানীয় দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মীর ভিসায় তিনি সৌদি আরবে যান। বর্তমানে তিনি দেশটিতে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরতে আকুতি জানাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী আকলিমা খাতুন ফোনে জানান, গত এক মাস ধরে তাকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। ঠিকমতো খাবার, চিকিৎসা কিংবা ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমাকে যেন ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যেই এজেন্সির মাধ্যমে তাকে পাঠানো হয়েছে, তারা কোনো খোঁজখবর রাখছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বনানীতে অবস্থিত আবির ব্রাদার্স নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে এবং স্থানীয় হরিনখোলা গ্রামের জহির মিয়া নামে এক দালালের সহযোগিতায় তাকে রিয়াদে পাঠানো হয়। এ সময় দালাল বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই দালাল তাকে ব্ল্যাকমেল করে দেশে ফেরত আনার জন্য ২ লাখ টাকা দাবি করছে।
আকলিমা খাতুন প্রথমে রিয়াদের একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হলে বর্তমানে তিনি সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সেইফ হাউজে রয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেখানে গিয়েও গত এক সপ্তাহ ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজের জীবন বিপন্ন বলে জানান এবং সরকারের কাছে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান।
ভুক্তভোগীর স্বামী মাসুক মিয়া বলেন, অভাবের কারণে দালালের কথায় বিশ্বাস করে স্ত্রীকে সৌদি পাঠিয়েছিলাম। আমাদের তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। এখন স্ত্রী মহাবিপদে। সরকারের কাছে অনুরোধ, তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করুন।
এ বিষয়ে জানতে আবির ব্রাদার্সে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে দালাল জহির মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সে ভালো না লাগার কারণে দেশে আসতে চাচ্ছে। এতে আমার কোনো দোষ নেই। যদি কিছু হয়ে থাকে, সেটা এজেন্সির দোষ। এম্বাসির লোকদেরই তার খোঁজ রাখা উচিত।
এ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ডের সহকারী পরিচালক মো. নবীর হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
এদিকে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আকলিমা খাতুনকে উদ্ধারের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D