১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬
প্রায় ৬০ বছর আগে উদ্ভাবিত উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম জাইরোকপ্টার নতুন করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। আধুনিক হেলিকপ্টারের তুলনায় এটি কম খরচে এবং পরিবেশবান্ধব সমাধান দিতে পারে বলে দাবি করছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক এআরসি অ্যারোসিস্টেমের সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা ড. সাইয়েদ মোহসেনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত এয়ার মোবিলিটির জন্য কার্যকর সমাধান খোঁজা হচ্ছিল। এটি আসলে একটি পুরোনো কিন্তু কার্যকর প্রযুক্তি, যা একসময় ভুলে যাওয়া হয়েছিল।’
১৯৬০-এর দশকে বিমান নির্মাতা অ্যাভ্রো কানাডার সাবেক কয়েকজন প্রকৌশলী ‘অ্যাভিয়ান ২/১৮০’ নামে একটি জাইরোপ্লেন তৈরি করেন। জাইরোপ্লেন বা অটোজাইরো প্রথম আত্মপ্রকাশ করে ১৯২০-এর দশকে। এ ধরনের উড়োজাহাজে উপরের রটর লিফট তৈরি করে এবং পেছনের প্রপেলার সামনের দিকে ঠেলে নেয়। হেলিকপ্টারের মতো রটর ইঞ্জিনচালিত নয়; বরং সামনে এগোনোর সময় বাতাসের প্রবাহে রটর ঘোরে। ফলে ইঞ্জিন বিকল হলেও বাতাসের সহায়তায় ধীরে নিরাপদে নিচে নামতে পারে।
সাধারণ জাইরোপ্লেনের জন্য রানওয়ে প্রয়োজন হলেও অ্যাভিয়ান ২/১৮০ ‘হপিং স্টাইল’ উড্ডয়নের মাধ্যমে উল্লম্বভাবে আকাশে উঠতে সক্ষম ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) থেকে উড্ডয়নযোগ্যতার সনদ পেলেও এটি কখনও বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়নি। ১৯৭০-এর দশকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলে এর নকশাও হারিয়ে যায়।
এআরসি অ্যারোসিস্টেম সেই পুরোনো নকশাকে আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তর করে নতুন জাইরোপ্লেন ‘পেগাসাস’ তৈরি করছে। এটি উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে, ফলে বিদ্যমান হেলিপ্যাড অবকাঠামো ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ হওয়া হাইব্রিড-ইলেকট্রিক ইঞ্জিন, যা পেছনের প্রপেলার চালায়।
ড. মোহসেনি বলেন, ‘এই উড়োজাহাজের বড় সুবিধা হলো এর রটর ইঞ্জিনচালিত নয়, তাই এতে গিয়ারবক্সের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অনেক কম।’
পেগাসাসে একজন পাইলটসহ দুজন যাত্রী বহন করা যাবে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার, যা বেশিরভাগ হেলিকপ্টারের তুলনায় কম হলেও জরুরি চিকিৎসা সেবাসহ বহু কাজে এটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
তার ভাষায়, ‘আমরা একটি সাশ্রয়ী ও সহজ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দিচ্ছি, যা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পরিচালিত প্রায় ৯০ শতাংশ মিশন সম্পন্ন করতে পারবে।’
তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে হেলিকপ্টারভিত্তিক জরুরি চিকিৎসা সেবার গড় খরচ প্রতিটি মিশনে প্রায় ৪ হাজার ১৬৫ পাউন্ড। সেখানে পেগাসাসের পরিচালন ব্যয় ঘণ্টায় আনুমানিক ৩০০ ডলার বলে জানান মোহসেনি। তবে এতে পাইলট ও চিকিৎসকদের খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়। উড়োজাহাজটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড।
গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এরোস্পেস বিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. ডগলাস থমসন বলেন, হেলিকপ্টার জ্বালানি ব্যবহারে অদক্ষ এবং যান্ত্রিকভাবে অত্যন্ত জটিল। অন্যদিকে অটোজাইরো অনেক সহজ কাঠামোর। ইঞ্জিন বিকল হলেও জাইরোপ্লেন নিরাপদে নামতে পারে, কারণ এর রটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘোরে। তবে বড় আকারে বা বেশি যাত্রী বহনের ক্ষেত্রে জাইরোপ্লেন কার্যকরভাবে ব্যবহার করা কঠিন বলে তিনি সতর্ক করেন।
পেগাসাস চালাতে বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন হলেও এটি হেলিকপ্টারের চেয়ে বেশি জটিল নয় বলে জানান মোহসেনি। পাইলটদের রটরক্রাফটের বাণিজ্যিক লাইসেন্স ও নির্দিষ্ট টাইপ রেটিং লাগবে, যা প্রতিষ্ঠান নিজেই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেবে।
ইতোমধ্যে পেগাসাস যুক্তরাজ্যের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (সিএএ) থেকে ‘ই কন্ডিশনস’ সনদ পেয়েছে, ফলে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চে প্রথম টেস্ট ফ্লাইটের আশা করা হচ্ছে।
এআরসি অ্যারোসিস্টেম এখন পর্যন্ত বেসরকারি খাত ও যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ পেয়েছে। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে আরও প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ড. মোহসেনি। অর্থায়ন নিশ্চিত হলে তিন বছরের মধ্যে উড়োজাহাজটি বাজারে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের নরউইচভিত্তিক স্কাইঅ্যাঞ্জেলস এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ১০টি পেগাসাস অর্ডার দিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কিডনি পরিবহন সংস্থা ‘৩৪লাইভস’ সর্বোচ্চ ৩০টি জাইরোপ্লেন কেনার চুক্তি করেছে।
ভবিষ্যতে পেগাসাস নজরদারি, এয়ার ট্যাক্সি এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ড. মোহসেনি। পাশাপাশি ৯ যাত্রীবাহী বড় জাইরোপ্লেন ‘লিংক্স পি৯’ তৈরির কাজ চলছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে বাজারে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D