ঘরে বসেই জমির পর্চা, অনলাইনেই মালিকানা প্রমাণ

প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

ঘরে বসেই জমির পর্চা, অনলাইনেই মালিকানা প্রমাণ

জমির মালিকানা নিয়ে দ্বিধায় পড়লে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয় খতিয়ান বা পর্চা। মৌজা-ভিত্তিক এই গুরুত্বপূর্ণ দলিলে জমির মালিকের নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও ধরন, খাজনার হারসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে। ভূমি জরিপের সময় প্রস্তুত হওয়া এ দলিল জমির মালিকানা প্রমাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্তমানে ঘরে বসেই সহজে জমির পর্চা সংগ্রহ করা যাচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (অ্যালামস) মিউটেশন’ কার্যক্রমের আওতায় অনলাইনে খতিয়ান বা পর্চা সংগ্রহের সুযোগ চালু হওয়ায় সময় ও শ্রম সাশ্রয়ী এবং ঝামেলামুক্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত হয়েছে।

অনলাইনে পর্চা পেতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইট dlrms.land.gov.bd অথবা স্মার্টফোন অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। আবেদন করতে হলে খতিয়ানের ধরন নির্বাচন করে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্ধারণ করতে হয়। এরপর খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম অথবা দাগ নম্বর দিয়ে সার্চ করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ ও মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হয়।

তাৎক্ষণিক অনলাইন কপি সংগ্রহের জন্য ফি নির্ধারিত রয়েছে ১০০ টাকা। আর সার্টিফাইড কপি প্রয়োজন হলে সাত কর্মদিবসের মধ্যে উপজেলা বা জেলা অফিস থেকে সরাসরি কিংবা ডাকযোগে সংগ্রহ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ১০০ টাকা ফি ও অতিরিক্ত ৪০ টাকা ডাক খরচ দিতে হয়। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে আবেদনকারী পিডিএফ কপি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে পারবেন।

অনলাইন প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা হলে উপজেলা ভূমি অফিসের অধীন ‘সেটেলমেন্ট অফিস’ বা জেলা প্রশাসকের রেকর্ড রুম থেকে সরাসরি সার্টিফাইড পর্চা সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে জমির তথ্য যাচাই, তথ্য সংশোধনের আবেদন এবং মৌজা ম্যাপ দেখার সুবিধাও চালু রয়েছে।

খতিয়ান সাধারণত বিভিন্ন ভূমি জরিপের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে), এসএ (স্টেট অ্যাকুইজিশন), আরএস (রিভিশনাল সার্ভে), বিএস, বিআরএস এবং সর্বশেষ বিডিএস (বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে)।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ জমির দলিল সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে করেছে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও খরচ উভয়ই কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য land.gov.bd ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।