মুন্সীগঞ্জে নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে-বাইরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

প্রকাশিত: ৬:৪১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২৫

মুন্সীগঞ্জে নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে-বাইরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) মাগরিবের নামাজের সময় দেউলভোগ দয়হাটা এলাকায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শ্রীনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা খান জানান, সংঘর্ষে আহতদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- আব্দুর রহিম (৪৮), আক্তার হোসেন (৪৫), তরিকুল ইসলাম (৪০), মমিনুল ইসলাম ফাহিম (২২) প্রমুখ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা বিএনপির সদস্য আওলাদ হোসেন উজ্জ্বলের শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক খানের জানাজায় অংশ নিতে নেতাকর্মীরা বায়তুল আমান জামে মসজিদে জড়ো হন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু- যিনি বিএনপি নেতা উজ্জ্বলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে অসন্তোষ থাকায় সপুর অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জানাজার আগে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা তরিকুল ইসলামের মোটরসাইকেলে বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার লাগানো দেখে সপুর সমর্থকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতর ও বাইরে উভয়পক্ষই মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় তরিকুল ইসলামের বোন রুবিনা আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে পুলিশ।

মীর সরফত আলী সপু অভিযোগ করে বলেন, ‘এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। আমি নামাজে ছিলাম, হঠাৎ শুনি বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা মসজিদের ভেতরেও ঢুকে অস্ত্রের মুখে অতর্কিত হামলা চালায়।’

অন্যদিকে মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতা মমিন আলী বলেন, ‘তরিকুল ইসলাম মনোনয়নপ্রাপ্ত শেখ মো. আব্দুল্লাহর লোক। এর আগেও তিনি গ্রেপ্তার ও বহিষ্কৃত হয়েছেন।’

শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘মনোনয়ন ঘোষণার পর দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কিছু নেতা বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। সপুর লোকজনই প্রথম হামলা করেছে। পরে তরিকুলের স্বজনেরা এলে তাদেরও মারধর করা হয়।’

তিনি ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

শ্রীনগর থানার ওসি বলেন, ‘ঘটনায় একজন আটক আছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি হত্যাচেষ্টা মামলায় তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার হলে শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী থানা ঘেরাও করে তাকে ছিনিয়ে নেয়।

ওই ঘটনায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ওসি কাইয়ুম উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয় এবং ১১ জানুয়ারি তরিকুলকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট