চট্টগ্রামে আ’লীগ নেতার বাড়ি থেকে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশিত: ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ, মে ৬, ২০১৭

চট্টগ্রামে আ’লীগ নেতার বাড়ি থেকে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বেলাল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযানের আগে পুলিশের হাতে আটক হওয়া চেয়ারম্যানের ভাই ও শ্রমিক লীগ নেতা সাইফুদ্দিন বাপ্পীকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। : বৃহস্পতিবার রাতে বোয়াখালী উপজেলায় পুলিশের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি বাপ্পীকে ছিনিয়ে নেয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ঘেরাও করে বিপুল অস্ত্রের সন্ধান পায়। পালিয়ে যাওয়া বাপ্পীকে গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে। : আওয়ামী লীগ নেতা ও চেয়ারম্যান বেলাল হোসেনের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছেÑ ইতালির তৈরি পয়েন্ট টু টু বোরের একটি পিস্তল ও ২টি ম্যাগজিন, স্পেনের তৈরি সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ বোরের ১টি পিস্তল ও ২টি ম্যাগজিন, জার্মানির তৈরি একটি রিভলবার, পাকিস্তানের তৈরি একটি শাটারগান, একটি বিদেশি এয়ারগান, ১টি চায়নিজ কুড়াল, চারটি রামদা, ১৬টি ছোট-বড় ছোরা এবং অস্ত্র তৈরির ১০ ধরনের সরঞ্জাম। : পুলিশ সূত্র জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর বায়েজিদ এলাকা থেকে শ্রমিক লীগ নেতা সাইফুদ্দিন বাপ্পীকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশ। বাপ্পীকে নিয়ে আরো অস্ত্র উদ্ধারে বোয়ালখালীর বাড়িতে যায় পুলিশ। এ সময় বাপ্পীর লোকজন পুলিশের ওপর হামলা করে বাপ্পীকে ছিনিয়ে নেয়। তারপর থেকেই চেয়ারম্যানের বাড়িঘরে অভিযান চালায় পুলিশ। : বায়েজিদ থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানান, চেয়ারম্যান বাড়ির কাচারি ঘরের উত্তর পাশে একটি কক্ষের খাটের নিচে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম রাখা হয়েছিল। নিজ ঘরকে বাপ্পী দেশি-বিদেশি অস্ত্রের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছিল। : তিনি আরো বলেন, ১ মে বায়েজিদের দক্ষিণ শহীদনগর এলাকা থেকে দুটি এলজি ও ১১ রাউন্ড কার্তুজসহ তিন যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে সাইফুদ্দিন বাপ্পীই এই অস্ত্রের জোগানদাতা বলে জানায় তারা। এরপর থেকে বাপ্পীকে গ্রেফতারে ফাঁদ পাতে পুলিশ। অস্ত্রের ক্রেতা সেজে পুলিশের একটি টিম বাপ্পীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। বাপ্পী ৩০টি অস্ত্র বিক্রিতে সম্মত হয়। অস্ত্রগুলো তার বাড়ি থেকে আনতে  ক্রেতাবেশী পুলিশ সদস্যদের ?জানায় বাপ্পী। : বায়েজিদ বোস্তামি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ মঈন উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাপ্পীকে বায়েজিদের আমিন জুট মিল সংলগ্ন পেট্রলপাম্পের সামনে থেকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার কাছে দুটি বিদেশি পিস্তল পাওয়া যায়। : বাপ্পী অস্ত্রের ক্রেতাদের তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমিন জুট মিল এলাকায় গিয়েছিল। সেখানে বায়েজিদ বোস্তামি থানার টিম যাওয়ার পর বাপ্পী বুঝতে পারে সে অস্ত্রের ক্রেতাবেশী পুলিশ সদস্যদের হাতে ধরা পড়েছে। : তিনি আরো বলেন, ‘বাপ্পীর কথামতো সহকারী পুলিশ কমিশনার এসএম মোবাশ্বের হোসেনের নেতৃত্বে বায়েজিদ ও চান্দগাঁও থানাপুলিশ যৌথভাবে হোরারবাগ গ্রামে যায়। চেয়ারম্যানের কাচারিঘর থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে বাপ্পীকে নিয়ে আমরা ফিরছিলাম। এ সময় তার ছোটভাই সালাহউদ্দিন রুমির (৪২) নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন এসে আমাদের ওপর ?হামলা চালায়। তারা বাপ্পীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’ : হামলায় বায়েজিদ বোস্তামি থানার এসআই আইয়ূব উদ্দিন ও এইচএম এরশাদউল্লাহ এবং চান্দগাঁও থানার এসআই মফিজ উদ্দিন আহত হন। : সূত্রমতে, বাপ্পীর বাড়ির পাশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ?বাপ্পীকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে সেখানে খবর ছড়িয়ে দেয়া হয় চেয়ারম্যানের বাড়িতে ডাকাত আক্রমণ করেছে। চারদিক থেকে তখন লোকজন জড়ো হতে শুরু করে। এর মধ্যে রাত পৌনে ১১টার দিকে বাপ্পীকে পুলিশের হাত থেকে নিয়ে পালিয়ে যায় তার ছোটভাই শ্রমিক লীগ নেতা রুমির অনুসারীরা। : বাপ্পীকে পাওয়া না গেলেও তার বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও কর্তব্যকাজে বাধাদান এবং আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় বোয়ালখালী থানায় আরও একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট