ভারতে অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধে আইন পাস

প্রকাশিত: ১০:০৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২৫

ভারতে অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধে আইন পাস

ভারতের সংসদ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) গভীর রাতে অনলাইন জুয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার জন্য ’প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং বিল’ পাস করেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ কোটি মানুষকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন অনলাইন কোম্পানি প্রতিবছর প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেয়।

নিষিদ্ধের আওতায় এসেছে তাস খেলা, পোকার এবং ফ্যান্টাসি স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম।

এর ফলে ভারতের জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি ক্রিকেট অ্যাপগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে ড্রিম ১১।

ড্রিম ১১ ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তিন বছরের জন্য ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান স্পনসর হয়েছিল এবং বর্তমানে দলের জার্সিতে তাদের লোগো রয়েছে।

বিল অনুযায়ী, এ ধরনের গেম প্রচার, অর্থায়ন বা পরিচালনা করা অপরাধ এবং আইন ভাঙলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

ড্রিম ১১ ইতিমধ্যেই ক্যাশ গেম ও প্রতিযোগিতা বন্ধ করেছে, তবে ব্যবহারকারীদের ‘অপেক্ষা’ করতে বলেছে।

বিলটি এখনো প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পায়নি, তাই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি।

বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকি জানিয়েছেন, ’বিল অনুমোদিত না হলে আমরা কিছুই করব না। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিমালার প্রতি বিসিসিআই সম্পূর্ণভাবে অনুগত থাকবে।’

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনটি মূলত অনলাইন জুয়ার আসক্তি, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং সামাজিক বিপর্যয় রোধের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। প্রতারক গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলো দ্রুত ধনী হওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের জীবন ধ্বংস করছে।

তবে ই-স্পোর্টস ও শিক্ষামূলক গেমগুলোকে এই আইনের বাইরে রেখে উৎসাহিত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ’নতুন আইন একদিকে ই-স্পোর্টস ও অনলাইন সামাজিক খেলাকে উৎসাহিত করবে, অন্যদিকে সমাজকে অনলাইন টাকার খেলাগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে।’

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অনলাইন জুয়ায় অর্থ হারাচ্ছেন এবং এই খাতকে কেন্দ্র করে প্রতারণা, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঘটনাও ঘটছে।