নিজের তৈরি বিমান আকাশে উড়ালেন স্কুলছাত্র রাহুল

প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২৫

নিজের তৈরি বিমান আকাশে উড়ালেন স্কুলছাত্র রাহুল

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মাত্র চারদিনে বিমান তৈরি করে আকাশে উড়িয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে স্কুলছাত্র রাহুল শেখ। আকাশে ওড়ানো রাহুলের বিমান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অনেকেই।

গত রোববার (১০ আগস্ট) স্কুলের মাঠে শিক্ষক ও সহপাঠীদের উপস্থিতিতে নিজের তৈরি প্লেনটি সফলভাবে উড়ায় রাহুল শেখ।

রাহুল বালিয়াকান্দি উপজেলার বারমল্লিকা গ্রামের কৃষক শামসুল শেখের ছেলে। সে স্থানীয় রামদিয়া বেনীমাধব বিপিনচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।

স্কুলছাত্র রাহুল জানায়, আমার স্বপ্ন একদিন বড় বিজ্ঞানী হবো। সেই স্বপ্নের প্রথম ধাপেই নিজের হাতে বানিয়ে ফেলেছি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ‘অচিন পাখি’ মডেলের একটি উড়োজাহাজ। সফলভাবে আকাশে ওড়াতে সক্ষম হয়েছি। বিমানটি তৈরিতে খরচ হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার টাকা।

সে আরও জানায়, প্রথম মডেলটির ওজন বেশি হওয়ায় উড়তে ব্যর্থ হই। কিন্তু দমে যাইনি আমি। টানা চার দিনের পরিশ্রমের পর অবশেষে নিজের হাতে বানানো উড়োজাহাজটি আকাশে ওড়াতে সক্ষম হই।

ক্ষুদে এ শিক্ষার্থী জানায়, মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ও আমার কিছু টাকা দিয়ে মোটর, ব্যাটারি ও রিমোট কন্ট্রোলসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কিনে আনি। সময় লেগেছে মাত্র চার দিন। আমি বিমানটি নিজে হাতে তৈরি করেছি। বিমানটি আকাশে উড়তে দেখে আমার মন ভরে যাচ্ছে। আমার বিমান দেখতে অনেক মানুষ ভিড় করছেন। এতে আমি অনেক খুশি।

‎রাহুলের এ অসাধারণ উদ্ভাবনী প্রতিভা এবং সৃজনশীলতাকে তার স্কুলের শিক্ষক ও এলাকাবাসী সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, রাহুলের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যতের আশার আলো। রাহুলই এমন একটি বিমান তৈরি করেছে। সে আমাদের জেলার গর্ব। ওর জন্য অনেক দোয়া করি ও অনেক বড় হোক।

রাহুলের বাবা শামসুল শেখ বলেন, আমার দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে রাহুল সবার ছোট। ও শুধু বিমানই নয়, আমার ছেলে ফ্যান-লাইটসহ অনেক কিছু বানিয়েছে। এসব জিনিস তৈরির প্রতি ওর ঝোঁক বেশি।

রাহুলের মা আলেয়া বেগম বলেন, আমার ছেলে দিনরাত পরিশ্রম করে বিমানটি তৈরি করেছে। প্রতিদিনই বিমানটি দেখতে বাড়ির ওপর অনেক লোকজন আসছেন। আমার কাছে অনেক ভালো লাগছে। আমার ছেলে ভবিষ্যতে আরও অনেক বড় কিছু আবিষ্কার করবে এই দোয়া করি।

রামদিয়া বেনীমাধব বিপিনচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শংকর পোদ্দার বলেন, রাহুল আমার স্কুলের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়ালেখায় সে অতটা মনোযোগী না হলেও কারিগরি দিক থেকে তার অসম্ভব ভালো প্রতিভা রয়েছে। সে বাড়িতে বসে ইউটিউব দেখে জ্ঞান নিয়ে ইলেকট্রনিকস বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করে। সে সম্প্রতি ইউটিউব দেখে উড়োজাহাজ বানিয়ে সেটা আকাশে উড়িয়েছে। বিষয়টি শুনে আমরা অবাক হয়েছি। তার মধ্যে ভালো প্রতিভা রয়েছে। রাহুলের ইচ্ছা সে বড় হয়ে প্রকৌশলী হবে।