পাকিস্তানে বন্যায় অর্ধশতাধিক শিশুসহ ১১১ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৫

পাকিস্তানে বন্যায় অর্ধশতাধিক শিশুসহ ১১১ জনের মৃত্যু

পাকিস্তানে চলতি বছরের বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাতে এখন পর্যন্ত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৩ জনই শিশু।

সোমবার (১৪ জুলাই) ইসলামাবাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এনডিএমএ)-র বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ জুন থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত প্রাণহানির প্রধান কারণ ছিল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট জমা পানিতে বিদ্যুৎ প্রবাহ এবং আকস্মিক বন্যা। জুনের শেষদিকে একটি নদীর তীরে আশ্রয় নিতে গিয়ে অন্তত ১৩ জন পর্যটক স্রোতের তোড়ে মারা যান।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে দেশটির সর্বাধিক জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবে।

এদিকে, পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে নগরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, ভূমিধস ও তীব্র বাতাসে অবকাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবছরের মোট বৃষ্টিপাতের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বর্ষাকালে হয়ে থাকে, যা সাধারণত জুনের শুরুতে ভারতে এবং জুনের শেষ দিকে পাকিস্তানে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই মৌসুমি বৃষ্টিপাত কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও একই সঙ্গে এটি বন্যা, ভূমিধস এবং ভবন ধসের ঝুঁকিও বহন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়া দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরণেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রকৃতির আচরণ কীভাবে বদলে যাচ্ছে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম। দেশটির প্রায় ২৪ কোটির বেশি মানুষ ক্রমাগত চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

২০২২ সালে ভয়াবহ বন্যায় পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায় এবং ১ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকা এখনো পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি।

এ ছাড়া চলতি বছর মে মাসেও প্রবল ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়।