সিলেটে ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎহীন প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা, চরম ভোগান্তি

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৫

সিলেটে ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎহীন প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা, চরম ভোগান্তি

রোববার রাত থেকে সিলেট নগরীতে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে পড়লে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। প্রায় ২৪ ঘন্টা পর সোমবার রাত ৮টার দিকে মিটার রিচার্জ হওয়া শুরু এবং সার্ভার সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

জানা যায় রোববার (১৩ জুলাই) রাত ৮টার দিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এই সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে উপশহর, পূর্ব জিন্দাবাজার, বারুতখানা ও পূর্ব শাহী ঈদগাহ এলাকার প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা রিচার্জ করতে পারেননি।

সোমবার উপশহর বিদ্যুৎ অফিসে সকাল থেকে ভিড় করেছেন অসংখ্য গ্রাহক। ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। তাদেরকে কোনো রকমের সমাধান দেওয়া হয়নি অফিস থেকে। শুধু মিটার পরিবর্তনের ফরম ধরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রচন্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। অনেকে রান্না, পানি উত্তোলনসহ নিত্যকার কাজ করতে পারেননি।

সোমবার দুপুরে উপশহর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম জানান ‘তীব্র দাবদাহের মধ্যে রাতভর বিদ্যুৎ ছিল না, সকালেও আসেনি। এখন অফিসে এসে শুনি সার্ভার সমস্যার কথা। কিন্তু কবে ঠিক হবে, কেউ জানে না।’

নগরীর পূর্ব জিন্দাবাজারের উন্দাল কিং কাবাবের সত্বাধিকারী সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, রবিবার রাত থেকে রেস্টেুরেন্ট বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় আছে।

বিদ্যুৎ অফিসের সূত্রে জানা যায়, সিলেটে প্রথম যেসব এলাকায় প্রিপেইড মিটার দেওয়া হয়েছিল সেই সব মিটারগুলোতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এগুলোতে আর রিচার্জ করা যাবে না। মিটার পরিবর্তনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিদ্যুৎ বিভাগ।

একজন গ্রাহক জানান ৭ ও ১৪ নং সিরিয়ালের মিটারগুলোতেই সমস্যা হচ্ছে।

আরেক গ্রাহক জমশেদ আলী বলেন, তারা আমাদের নতুন মিটার দিচ্ছে। এখন এই মিটার কারা লাগিয়ে দিবে, কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।

এদিকে গ্রাহক ভিড় বাড়তে থাকায় দুপুরে সেখানে অবস্থান নেয় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা।



এদিকে সোমবার রাত ৮টার দিকে সিলেটে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারীদের জন্য স্বস্তির খবর আসে। মিটার রিচার্জ হচ্ছে। সার্ভার সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

এর আগে রবিবার রাত ৮টার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন নগরীর উপশহর ও আশাপাশ এলাকার শত শত প্রি-পেইড মিটারের গ্রাহক। তারা দ্রুত রিচার্জ করতে চাইলেও তা সম্ভব হচ্ছিলনা। কারণ বুঝতে না পেরে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়েন। এমনকি বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বারবার কল দিয়েও কোনো জবাব পাচ্ছিলেন না তারা।

দুপুরের দিকে প্রায় হাজারখানেক গ্রাহক নগরীর উপশহরস্থ বিদ্যুত অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা গোপনে অফিস থেকে সটকে পড়েন।

পরে বিকেলের দিকে সেনাবাহিনী উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় কাজে সহযোগীতা করেন। সবার অভিযোগ শোনা, লিখিত আবেদন রাখা- ইত্যাদি কাজ হতে থাকে সেনা তত্ত্বাবধানে।

সোমবার রাত ৮টার দিকে জানা যায়, সার্ভারের সমস্যা সমাধান হয়েছে। মিটার এখন রিচার্জ করা যাচ্ছে।

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামছ-ই-আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আষাঢ়ের এই তীব্র গরমে বিদ্যুৎবিহীন আরেকটা রাত কাটানোর যন্ত্রণা থেকে এখন মুক্তির আনন্দ বিরাজ করছে গ্রাহকদের মধ্যে।

পিডিবি জানায়, পুরাতন মিটারে নানা জটিলতা থাকায় চলতি মাস থেকেই তা পরিবর্তনের কাজ শুরু করে বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে এরই মধ্যে শনিবার দুপুর থেকে বন্ধ হয়ে যায় পুরাতন মিটারের রিচার্জ সার্ভার। ফলে নতুন করে রিচার্জ না হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহও। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীদের নতুন মিটার প্রদান করে আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিকের চেষ্টা চলছে।

পিডিবি, বিক্রয় বিতরণ-২ এর নিনির্বাহী প্রকৌশলী শামছ-ই-আরেফিন বলেন, এই সার্ভার ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রণাধীন। সেখানে রোববারই যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখানেও কাজ চলছে। আজকেই (সোমবার) সচল হওয়ার আশ্বাস দিলেও কখন সচল হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি এই কর্মকর্তা বলেন।

নতুন মিটারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি মাস থেকেই ধাপে ধাপে আমরা গ্রাহকদের পুরাতন মিটার পরিবর্তন করে নতুন মিটার স্থাপনের কাজ শুরু করি। কারণ পুরাতন মিটারে লক, ব্যাটারি সংক্রান্ত নানা জটিলতা রয়েছে। তবে এরই মধ্যে পুরাতন মিটারের সার্ভার ডাউন হয়ে গেছে। তাই এখন যারাই আসছেন তাদের আমরা নতুন মিটার প্রদান করছি।

তিনি আরো বলেন, সাধারণ একসাথে এতো মানুষের চাহিদা থাকায় নতুন মিটার স্থাপনে আমাদের কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে যতদ্রুত সম্ভব নতুন মিটার স্থাপনের কাজ চলছে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট