জরিপ, সিলেটের স্বামীরা বেশি যত্নশীল

প্রকাশিত: ১:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৫

জরিপ, সিলেটের স্বামীরা বেশি যত্নশীল

দেশের কোনে অঞ্চলের স্বামীরা কেমন হয়? সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, দেশে স্ত্রী নির্যাতন সবচেয়ে বেশি হয় বরিশালে, আর সবচেয়ে কম হয় সিলেটে।

অঞ্চলভেদে নারীর প্রতি সহিংসতা কতটা ফারাক হয়, তার নিরূপণ হয়ত কিছুটা কঠিন। অশিক্ষা, গরিবি, কুসংস্কার, অবৈধ টাকার ছড়াছড়ির মতো বিষয়গুলো ভূমিকা রাখে যেকোনো ধরনের বৈষম্য ও লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা যেমন, বরিশাল ও খুলনায় স্ত্রীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা বেশি ঘটছে। তবে নারী নির্যাতন কম, তার মানে এই নয় যে, সে এলাকায় নারীর প্রতি সহিংসতা ঘটছে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এর যৌথ প্রতিবেদন-২০২৪ এ উঠে এসেছে এমন তথ্য। চলতি বছরের মার্চে এই প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

প্রতিবেদন বলছে, বরিশালের একশ জনের মধ্যে ৮২ জন নারীরই অন্তত একবার স্বামী বা সঙ্গীর হাতে শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি চাপিয়ে দেওয়া আচরণের মাধ্যমেও নিপীড়ণ করা হয় তাদের।

খুলনায় একশ জনের মধ্যে ৮১ জন, চট্টগ্রামে ৭৬ জন, রাজশাহী ও ময়মনসিংহে ৭৫ জন, রংপুরে ৭৪ জন এবং ঢাকা ও সিলেটে ৭৩ নারী শিকার হন লৈঙ্গিক সহিংসতা ও নিপীড়নমূলক আচরনের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন দুর্যোগপূর্ণ এলাকায়, স্বামীরা কাজের সন্ধানে বাইরে থাকেন। তখন ঘরে থাকা নারীর দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। স্বামীর অনুপস্থিতিতে পরিবার প্রধানের মতো নারীর কাজ বাড়লেও আদতে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয় না। কাজ করতে গিয়ে নারীরা নানান অভিযোগের শিকার হন, এবং বাড়ি ফিরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বামীরা পরিবার পরিজন বা পাড়া প্রতিবেশির অভিযোগ গ্রহণ করে স্ত্রীর প্রতি রূঢ় আচরণ শুরু করেন।

প্রতিবেদন বলছে, সহিংসতার পর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণেও পিছিয়ে বরিশাল। মাত্র ছয় শতাংশ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সবচেয়ে পিছিয়ে ময়মনসিংহ, মাত্র ৫ শতাংশ নির্যাতনের ঘটনা আইনের মুখ দেখে।

সিলেটের স্বামীদের যত্নশীল হবার এমন খবরের সাথে, নারীদের সচেতন হওয়ারও ত্থ্য আছে। আর সে কারণে নির্যাতন কম হলেও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করায় দেশে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে সিলেট। সিলেটে প্রায় ১৩ শতাংশ স্ত্রী নির্যাতনের ঘটনায়ে আইনি পদক্ষেপে নিতে দেখা গেছে, যেখানে ঢাকাতেও এই হার ৯ শতাংশ।