গুজরাটে বিমান বিধ্বস্তে সব আরোহী নিহতের শঙ্কা

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২৫

গুজরাটে বিমান বিধ্বস্তে সব আরোহী নিহতের শঙ্কা

ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের কাছে বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দুপুরে ২৪২ জন আরোহী নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় কেউ বেঁচে নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) আহমেদাবাদের নগর পুলিশ কমিশনার জিএস মালিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) তিনি বলেন, মনে হচ্ছে বিমান দুর্ঘটনায় কেউ বেঁচে নেই।

তিনি আরও বলেন, অফিসসহ আবাসিক এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হলে স্থানীয় মানুষও মারা যেত। হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ১৭১ ফ্লাইটটি আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। কিন্তু, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়ে যায় বোয়িং ৭৮৭-৮ কুইকজেট সিরিজের ফ্লাইটটি।

বিধ্বস্ত বিমানটিতে ১৬৯ ভারতীয়, ৫৩ জন যুক্তরাজ্যের, একজন কানাডা ও সাতজন পর্তুগালের নাগরিক ছিলেন। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলটরা ‘মেডে কল’ নামে একটি জরুরি সংকেত পাঠান, যা সাধারণত বিপদের সময় পাঠানো হয়। কিন্তু এরপর আর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানিয়েছে ভারতের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্সে তিনি লিখেছেন, আহমেদাবাদের দুর্ঘটনা আমাদের হতবাক করে দিয়েছে, দু:খিত করেছে। এটা কতটা হৃদয়বিদারক, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এই দুঃখের মুহূর্তে, বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সকলের প্রতি আমি সমবেদনা প্রকাশ করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় মন্ত্রী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করেছি।

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল বিমান দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আমি মর্মাহত। দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আহত যাত্রীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও লিখেছেন, আহত যাত্রীদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গ্রিন করিডরের ব্যবস্থা করা এবং হাসপাতালে চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





এদিকে গুজরাটে বি জে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের ওপর বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পাঁচ মেডিকেল শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন স্নাতক এবং একজন স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। তারা সবাই আবাসিক শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে আহমেদাবাদের সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২৪২ জন আরোহী নিয়ে উড্ডয়ন করে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার (ফ্লাইট এআই১৭১)। কিন্তু ওড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটি মেঘানীনগরের একটি আবাসিক এলাকায় বিজে মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের ওপর ভেঙে পড়ে।

দুর্ঘটনার সময় মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলের ছবি থেকে দেখা গেছে, ছাত্রাবাসের ক্যান্টিনের টেবিলে পড়ে আছে খাবারের থালা, গ্লাস, আর ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীর ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন উদ্বিগ্ন মানুষজন। প্লেনের একটি অংশ সরাসরি ঢুকে পড়েছে ছাত্রাবাসে।

দুর্ঘটনার পরে ভারতের চিকিৎসক সংগঠন এফএআইএমএ বলেছে, আমরা গভীরভাবে শোকাহত। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও বেড়েছে যখন জানতে পারলাম, প্লেনটি বিজে মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে আছড়ে পড়েছে এবং অনেক এমবিবিএস ছাত্রও আহত হয়েছেন। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং যেকোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

এখন পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে সেনা, দমকল এবং মেডিকেল টিম কাজ করছে।