১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:৪২ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০২৫
সিলেট নগরীর শাহপরান (রহ:) থানাধীন পীরেরচক এলাকার লন্ডন প্রবাসী আব্দুন নুরের বিরুদ্ধে ভুয়া আমোক্তারনামা তৈরি করে ভুসম্পত্তি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, প্রাণ নাশের হুমকি ও জালিয়াতির মাধ্যমে এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৬ মে) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন পীরের চকের বাসিন্দা মৃত ইব্রাহিম আলীর ছেলে শামীম আহমদ।
লিখিত বক্তব্যে শামিম আহমদ বলেন, লন্ডন প্রবাসী আমার আপন বড় বোনের ছেলে আব্দুন নুরের নেতৃত্বে একটি কুচক্রি মহল আমাদের পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন জমিজমা জোরপূর্বক দখল করে নিতে আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্য মামলা, সন্ত্রাসী হামলা আর জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আমাদের স্বাভাবিক জীবনকে বিপর্যস্থ করে তুলেছে। উক্ত চক্রের জুলুম অত্যাচার আর প্রান নাশের হুমকিতে তিনি ও তার ৩ ভাই আজ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। সন্ত্রাসীরা তাদের ভু সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে যে কোন মূহুর্তে শামীম আহমদ ও তার ভাইদের খুন খারাবি সহ বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারে। কখন কোথায় সন্ত্রাসীরা তাদের উপর আক্রমন চালাবে এই আতঙ্কে তাদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আব্দুন নুরের অন্যায় কার্যকলাপের সঙ্গী ভুমিখেকো ও মামলাবাজদের অন্যায় অবিচার আর অনধিকার কর্মকান্ডে আমাদের পরিবারে চরম অশান্তি বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীদের প্রতিনিয়ত হুমকি প্রদান এবং আমাদের ভুমি জবরদখলে গভীর ষড়যন্ত্রের কারনে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। শুধু তাই নয় উক্ত আব্দুন নুর সম্প্রতি সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে শামীম আহমদ ও তার ৩ভাই কালা মিয়া, মজির মিয়া, সুনু মিয়ার বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনেছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
শামীম আহমদ বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমার আপন বড় বোন লন্ডন প্রবাসী ছুরেতুন নেছার বিপথগামী ও অবাধ্য ছেলে আব্দুন নুর কয়েক মাস আগে দেশে এসে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মামলাবাজ পিরের চকের মৃত সোনাফর আলীর ছেলে উনু মিয়া (উঠু) সহ অন্যান্য সন্ত্রাসীদের টাকার বিনিময়ে তাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। কাল্পনিক ও অবিশ্বাস্য ঘটনা সাজিয়ে তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩টি মিথ্যা মামলা করেছে। সব মামলাই আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এসব কারণে শামীম আহমদ আর্থিক ও সামাজিকভাবে মরাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। সন্ত্রাসীদের জঘন্য কার্যকলাপ সামাল দিতে ৪০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে দাবি করেন শামীম আহমদ। তিনি বলেন, আব্দুন নুর, উনু মিয়া (উঠু) ও আনা মিয়া সহ অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের নিয়ে শামীম আহমদের টিনসেডের ঘর, গেইট ও বাউন্ডারি দেয়াল ভেঙ্গে ফেলার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় শাহপরান (রহ:) থানায় একাধিক জিডি এন্ট্রি করেছেন শামীম আহমদ। জিডি নং- ১১৮১, তারিখ ২৩/০৫/২০২৫, জিডি নং- ১৩৯৪, তারিখ ২৪/১০/২০২৩, জিডি নং- ৩৮৫, তারিখ ০৮/০৭/২০২৩ ইংরেজি।
শামীম আহমদ এর অভিযোগ, অভিযুক্ত আব্দুন নুর তার বর্তমান কোন ঠিকানা না থাকায় ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় বসবাস করে। লন্ডনের ঠিকানা দিয়ে অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আব্দুন নুরের ভাড়াটে সন্ত্রাসী উনু মিয়া (উঠু) আমি ও আমার পরিবারের লোকদের বিরুদ্ধে কখনও নিজে বাদী হয়ে আবার কখনও স্বাক্ষী সেজে অন্য লোককে বাদী করে মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে আব্দুন নুরের কাছ থেকে ফায়দা লুটছে।
শামীম আহমদ বলেন, আব্দুন নুর তার কাছে তাদের এজমালিক সম্পত্তি কম মূল্যে বিক্রি করার প্রস্তাব দিলে তাতে রাজি না হওয়ায় জেদের বশবর্তী হয়ে তার ভাই কালা মিয়া ও সুনু মিয়ার সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য উনু মিয়াকে দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। জমিজমা নিয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিবিধ মোকদ্দমা নং- ৫৩/২০২২ রয়েছে। ২০২৩ সালের ৩১ মে উক্ত মামলায় শামীম আহমদের অনুকূলে আদেশ হয়। উক্ত ভূমিতে আদালতলে স্থিতাবস্থা থাকা সত্বেও বেপরোয়াভাবে আইনের তোয়াক্কা না করে আব্দুন নুর এসব কার্যকলাপ করে যাচ্ছে। শামীম আহমদ তাদের জীবনের নিরাপত্তা এবং বাউন্ডারির দেয়াল, টিন সেডের ঘর, স্ট্রিলের গেইট যাতে সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর বা ক্ষতিগ্রস্থ না করতে পারে সেজন্য পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। অভিযোক্ত আব্দুন নুরের স্থায়ী কোন ঠিকানা নেই। বিভিন্ন আবাসিক হোটেল সহ গোপনস্থানে আত্মগোপন করে আছে। আব্দুন নুরের মূল উদ্দেশ্য হলো শামীম আহমদকে খুন করে পালিয়ে যাওয়া। আব্দুন নুরের ইউকে পাসপোর্ট নম্বর- ৫৪৮০৩২৫৩৬। শামীম আহমদ আব্দুন নুরের উক্ত পাসপোর্ট জব্দ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানান।
শামীম আহমদ বলেন, ২০১২ সালে আব্দুন নুর এর মাতা অর্থাৎ আমার বোন সুরেতুন নেছা লন্ডন থাকাবস্থায় আবদুন নুর চাপ প্রয়োগ করে হেবা দলিলমূলে ০.১২৮৩ শতক জায়গা সুরেতুন নেছার নামে রেজিষ্ট্রি করে নেন। এখানে শর্ত ছিলো উক্ত জমির বিনিময়ে আমাকে লন্ডন নিবেন এবং আমাদের নির্মিতব্য ৪তলা ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করে দিবেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা কথা রাখেন নি। উল্টো আবদুন নুর ও উনু মিয়া উঠু, আমি ও আমার ভাইদের বিরুদ্ধে মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত সিলেটে সিআর মামলা নং ৩৬৬/২১, ১৪৩/৩০৭/৩৮৫/৪৪৮/৩৮০/৫০৬/৩৪ ধারায় পেনাল কোড দায়ের করেন। পরবর্তীতে উনু মিয়া কর্তৃক আমাদের বিরুদ্ধে সিআর মামলা নং ২৬২/২৩ ধারা ৪০৬/৪২০/৩৮১/৪৬৬/৪৬৭/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করে। যা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। অপরদিকে অভিযুক্ত উনু মিয়া আমল গ্রহণকারী ১নং আদালত সিলেটে (সিআর ৫/২৪, ধারা ৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮) সুনু মিয়াদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। যা বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তনাধীন রয়েছে। এখানে শেষ নয় উনু মিয়া, উঠু, আমি ও আমার ভাই কালা মিয়া সুনু মিয়ার বিরুদ্ধে শাহপরান (রহ.) থানায় মামলা (নং ২১, তাং- ১৭/০২/২০২৪, ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড ১৮৬০) দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো সুনির্দিষ্ট স্বাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ায় অত্র মামলা থেকে আমাদের অব্যহতি প্রদানের প্রার্থনা করেন। মামলা মিথ্যা প্রমাণের পরও উনু মিয়া (উঠু) এতে নারাজি প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত ঘটনা তদন্তে পিবিআইকে দায়িত্ব প্রদান করেন। পিবিআইর তদন্তকারী কর্মকর্তা জনাব কামরুল সাহেব সরেজমিনে তদন্তকালে উনু মিয়া তার অভিযোগের পক্ষে স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ২১১ ধারা অনুযায়ী তার মামলাটি কাল্পনিক ও মিথ্যা প্রমাণিত হয়। উনু মিয়া চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট ৩নং আমলগ্রহণকারী আদালত সিলেটের শাহপরান (রহ.) সিআর মামলা (নং ১৬৬/২৪, ধারা
৪০৬/৪২০/৪৬৬/৪৬৭/৪৬৮/৪৬৯/৪৭১/৩৪) দন্ডবিধি দায়ের করেন। এতে শামীম আহমদ ও তার ভাইদের আসামি করা হয়। ওই মামলায় ভুয়া জাল ওয়ারেন্ট ইস্যু করে প্রতরনার দায়ে উনু মিয়া পুলিশের হাকে আটক হন। এসব মামলা দায়েরে উনু মিয়া চরম জালিয়াতির আশ্রয় নেন এমনকি তিনি তার ছেলেকে ভিকটিম দেখিয়ে (কোতোয়ালী এক্সিকিউটিভ মামলা নং- ২৫৭/২০২৩) শাহনুর, সুহিন আহমদ ও শামীম আহমদকে আসামী করে হয়রানীমূলক মামলা দায়ের করলে তা থেকে তিনি বেকসুর খালাস পান। আব্দুন নুর ও উনু মিয়া কর্তৃক দায়েরকৃত একাধিক মামলা প্রশাসনের তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তাছাড়া উক্ত ভূমিতে আব্দুন নুর ও তার সহযোগীদের কোন মালিকানা নেই ও এসব ভূমির প্রকৃত মালিক শামীম আহমদ ও তার চার ভাই-বোন বলে প্রমাণিত হয়।
শামীম আহমদ বলেন, উক্ত ভূমি নিয়ে সিনিয়র সহকারি জজ আদালত সদর সিলেটে সত্ত¡ মোকদ্দমা নং ৫১০/২০২২ ইংরেজি মামলায় স্থিতাবস্থা রাখার নির্দেশ রয়েছে। ৩১/৬২০২৩ ইংরেজি উক্ত ভূমিতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শাহজালাল (রহ:) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আদেশ দেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
নালিশা ভূমি জেলা- সিলেট, উপজেলা- সদর, থানা- শাহপরান (রহ:), মৌজা- হাজীরাই, জে.এল নং- এস এ ১০৩, নামজারি খতিয়ান নং- ১৮৮৮, ২৫-২০৮০, ১০৬৪, ৯১৫ ও ৯৩৬, দাগ নং- ১১৪২, ১১৭৯, ১১৮৪, ১১৮৫, ১১৮৬, ১১৮৭, ১১৮৯, ১১৯২, ১১৯৫, ভূমির পরিমান এক একর ০৮ শতক ৭৫ পয়েন্ট জমি আমরা চার ভাই ও এক বোনের নামে। ২৮ বছর ধরে আমরা উক্ত ভূমিতে ভোগ দখলে আছি। আমার নামীয় দাগ নং- ১১৮৪, ১১৮৬১ ১১৮৯ এর ভূমির দক্ষিণ দিকে ১০২ ফুট দের্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থ ব্যক্তিগত বাউন্ডারী দেয়াল, গেইট, গাছপালা, টিনসেড ঘর রয়েছে। তাছাড়া আমাদের মালাকানাধীন জায়গায় আমরা শাক-সবজি চাষ করি এবং উক্ত জায়গায় ফলমুলের গাছ বিদ্যমান রয়েছে। আমার নামে দাগ নং- ১১৮৬ এর ০.০১৮৭৫০ জায়গা এবং আমি ও আমার ভাই কালা মিয়া, সুনু মিয়া, মজির মিয়া ও বোন ছুরেতুন নেছার নামে ৯১৫ নং খতিয়ানে ০.১৬৫০ শতক জায়গার উপর ২০০৬/৭ সালে ৪ তলা ফাউন্ডেশনের ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
শামীম আহমদ এই জুলুম ও অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে সরকার তথা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D