উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বন্যার শঙ্কা

প্রকাশিত: ১০:১৬ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২৫

উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বন্যার শঙ্কা

Manual7 Ad Code

সিলেটে গত দু’দিনের ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে একাধিক উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাড়ছে নদ-নদীর পানি। ফলে সিলেটজুড়ে দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা। সোমবার (১৯ মে) রাত থেকে মঙ্গলবার বেলা ২টা পর্যন্ত টানা অতি বর্ষণের ফলে সিলেট বিভাগের সকল নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে এখনো কোনো নদী বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।

Manual5 Ad Code

মঙ্গলবার (২০ মে) দুপুর পর্যন্ত গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জের বেশকিছু নিচু এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাফলং।

সোমবার সকাল থেকে ভারতের মেঘালয় থেকে নামা পাহাড়ি ঢল প্রবেশ করতে শুরু করে জাফলংয়ের পিয়াইন নদীতে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নদীর পানি বিপজ্জনক হারে বাড়তে থাকে। ওইদিন সকালে জাফলংয়ের জিরো পয়েন্টসহ আশপাশের পর্যটন ও আবাসিক এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। ফলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম। প্রশাসনের নির্দেশে নিরাপত্তার স্বার্থে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, পিয়াইন নদীর প্রবল স্রোতে শুরু হয়েছে ভাঙন। নদী তীরবর্তী বসতি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পড়েছে হুমকির মুখে। নদীর পানির গতি ও চাপ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলাতেও।

আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল ৯টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখালে ২১৬ মিলিমিটার, গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে ১৩৬ মিলিমিটার, সিলেট শহরে ৯২ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জ শহরে ১৬৫ এবং সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়ের গড়ে ১৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে আগামী তিনদিন সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার সকল নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এছাড়া ভারতের মেঘালয় ও আসামেও টানা ভারী বর্ষণ চলছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে আরও ঢল নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Manual5 Ad Code

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আপাতত নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও প্রবল বর্ষণ ও ঢলের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ ঘোষণা করে আগাম সতর্কতা জারি করেছে। উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেনাবাহিনী, রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক দল এবং প্রয়োজনীয় নৌকা ও সরঞ্জাম। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওইসব জেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে সতর্কতা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।

Manual4 Ad Code

তাছাড়া সিলেট মহানগর ও আশপাশের এলাকায় দিনভর বৃষ্টির কারণে দেখা দিয়েছে সাময়িক জলাবদ্ধতা। সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অনেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হননি। নাগরিক জীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, সিলেটের আকাশে এখনো প্রবল মেঘ জমে আছে এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

Manual8 Ad Code

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার উজ জামান বলেন, সিলেটের যে সকল উপজেলা বন্যার আশঙ্কা রয়েছে সেই সকল উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশনা দেয়া আছে, বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোর জন্য নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখেন। পাশাপাশি সিলেটের প্রসাশনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি রয়েছে। এছাড়া শুকনো খাবার, স্যালাইন রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code