সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস‍্য সচিব নুরুলকে অবাঞ্চিত ঘোষণা

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২৫

সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস‍্য সচিব নুরুলকে অবাঞ্চিত ঘোষণা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট জেলার সদস্য সচিব নুরুল ইসলামকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে সংগঠনটির একাংশ। বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট জেলা ও মহানগরের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম, ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় এ সংবাদ সম্মেলন।

সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট জেলার আহ্বায়ক আকতার হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, সংগঠনটির জেলার সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম ভূয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির ২৭২ জন সদস্যের মধ্যে ২৫৪ জন সদস্য এই বিষয়ে অবগত নন। অব্যাহতি দেওয়ার সদস্য সচিবের কোনো এখতিয়ার নেই। জেলা কমিটির সদস্যদের মতামতকে প্রধান্য না দিয়ে অন্যায় ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ভিত্তিহীন সিদ্ধান্ত। এসব কর্মকাণ্ড সংগঠনের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করে এবং সংগঠনের ঐক্যকে বিনষ্ট করে। কেন্দ্রীয় কমিটি এ বিষয়ে কোন ঘোষণা দেয়নি।

সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, নুরুল ইসলাম কর্তৃক আরও দুটি আলাদা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সালমান আহমদ খোরশেদকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং আয়েশা সিদ্দিকা প্রিয়াকে ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র ঘোষণা করেন, যা একজন সদস্য সচিবের এখতিয়ারের বাইরে এবং সংগঠনের নিয়মনীতি পরিপন্থী কাজ। সিলেট জেলা ও মহানগরের সকল শিক্ষার্থীরা এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ঘৃনা ভরে প্রত্যাখান করছি।

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, এসব সিদ্ধান্ত ও কর্মপন্থা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন তৈরি করছে। এ কারণে নুরুল ইসলামকে সিলেট জেলার সংগঠন থেকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা বলেন, একের পর এক সাংগঠনিক নিয়ম বহির্ভূত সিদ্ধান্ত ও অবৈধ কার্যক্রম করার কারণে নুরুল ইসলামকে সিলেট থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হলো। সংগঠনের মধ্যে বিভাজন ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেটের শিক্ষার্থীরা সদস্য সচিব অব্যাহতির সিন্ধান্তকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করছি।

আহ্বায়ক আকতার হোসেন জানান, তিনি জেলা কমিটির সদস্যদের নিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম দায়িত্বের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নীতি ও আদর্শে অবিচল থেকে কাজ করে যাবেন।

সংগঠনটি আবারও নিশ্চিত করেছে, এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যার উদ্দেশ্য হলো সমাজে বৈষম্য, জুলুম ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সংগঠনের কয়েকজন পদপ্রাপ্ত সদস্য রাজনৈতিক দলের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত থেকে সংগঠনের কাজেও যুক্ত থাকছেন, যা সংগঠনের মূলনীতির পরিপন্থী।

এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যদি কেউ কোনো রাজনৈতিক দল বা ছাত্রসংগঠনে যুক্ত হতে চান, তাহলে তাকে অবশ্যই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। অন্যথায় সাংগঠনিকভাবে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘জুলাই ২৪’ এর বিপ্লবী চেতনা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা আহ্বায়ক আখতার হোসেন, যুগ্ন আহ্বায়ক পারবেজ, সংগঠক সুমাইয়া আকতার, মহানগর আহ্বায়ক দেলোয়ার, মহানগর মুখ্যপাত্র আলী রিয়াদ, মহানগর আহ্বায়ক কমিটির মুখ্য সংগঠক মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা শাখার সংগঠক সুমাইয়া আক্তার ও মহানগর কমিটির ফাহিমা মাহি, মহানগরের মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, মহানগর সংগঠক ফাহিমা মাহি, যুগ্ন আহ্বায়ক লাহিন, সুলতান, মাহফুজ, রানা, জিয়া, সাদ্দাম, জারওয়ার, আশরাফুল, লাকায়েত, কামরান প্রমুখ।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট