১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৩৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০১৭
রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বাসা থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর সকালে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এক নেতার লাশ পাওয়া গেছে। নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার নুরুল আলম নুরু কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বাসা চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরায়। বুধবার রাত ১২টার দিকে বাসা থেকে তাকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে স্বজনদের দাবি।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাউজান উপজেলার বাগোয়ান এলাকায় কর্ণফুলী নদীর পাড়ে নুরুর লাশটি পাওয়ার কথা পুলিশ জানায়। তবে সকালে স্থানীয়রা নদীর পাড়ে হাতে রশি ও চোখে কালো কাপড় বাঁধা লাশটি নদীর কাদায় উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে নিহতের স্বজনরা সেখানে গিয়ে লাশ সনাক্ত করেন।
রাউজান থানার এসআই নুরুন্নবী ঘটনাস্থল থেকে টেলিফোনে সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে বেলা পৌনে ২টার দিকে তারা ঘটনাস্থলে যান। তার হাত রশি দিয়ে ও মুখ ওড়না দিয়ে বাঁধা। শরীরের মাথা ও মুখের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
নুরুর ভাগ্নে রাশেদুল ইসলাম বলেন, রাত ১২টার দিকে ছয় থেকে সাতজন সাদা পোশাকে এবং দুই-তিনজন জেলা পুলিশের পোশাক পরা লোক এসে নুরুকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়। যারা ধরে নিয়েছিল, তারা কোনো কথা বলেনি বলে জানান তিনি। রাশেদুলের দাবি, সাদা পোশাকে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদবীর একজন কর্মকর্তাকে তারা চিনতে পেরেছেন।
বুধবার রাতে তুলে নেয়ার পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন ছাত্রদল নেতাকে দলীয় নেতা নুরুর ছবি দিয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিতেও দেখা গেছে। পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে এসআই নুরুন্নবী বলেন, পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে। তারা এখনও এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেনি।
বুধবার রাতে রাউজান থানা পুলিশের কোনো অভিযান ছিল না বলেও জানান থানার সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্বে থাকা নুরুন্নবী।
স্থানীয়রা জানায় নিজ বাড়ি থেকে আনুমানিক ৫ কিলোমিটার দূরে কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সকাল থেকে ফেসবুকে লাশের ছবি ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ শুরু থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তাকে তুলে নেয়ার প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা পর বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। নুরুর গ্রামের বাড়ি রাউজান উপজেলার গুজরা ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের কমলার দিঘীর পাড় এলাকায়।
রাউজান থানার ওসি মো. কেফায়েত উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা একটা লাশ উদ্ধার করেছি। মাথায় গুলির চিহ্ন আছে। সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা। তার পরণে আছে লুঙ্গি। শার্ট দিয়ে চোখ বাঁধা। মুখের ভেতর ওড়না ঢোকানো পাওয়া গেছে।
ওসি বলেন, পরিচয়ও আমরা নিশ্চিত হয়েছি। সে বিএনপির ক্যাডার নুরুল আলম নুরু।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন গত (বুধবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা পুলিশের একটা টিম নগরীর বাসা থেকে নুরুকে তুলে নিয়ে গেছে। টিমের কয়েকজন জেলা পুলিশের ইউনিফর্ম পড়া ছিল। কয়েকজন ছিল সিভিল পোশাকে। রাউজান থানার নোয়াপাড়া ফাঁড়ির এস আই জাবেদ টিমের নেতৃত্ব দেয়। এরপর তার লাশ পাওয়া গেছে বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলার ঘাট এলাকায়। নদীর পাড়ে পড়ে ছিল লাশ। মাথায় সরাসরি গুলি করেছে। মাথা একেবারে থেঁতলে গেছে।
বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে রাউজান থানার ওসি কেফায়েত উল্লাহ বলেন, তাকে কারা তুলে নিয়েছে, কারা হত্যা করেছে আমরা এখনও নিশ্চিত নয়। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ করা হয়নি। কাল (শুক্রবার) লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠাব। এদিকে নুরু হত্যার প্রতিবাদে রোববার দেশের সব জেলা-মহানগরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D