দেশে ফিরে আপন ঘরে ঠাঁই পাচ্ছেন না প্রবাসী

প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৫

দেশে ফিরে আপন ঘরে ঠাঁই পাচ্ছেন না প্রবাসী

দেশে ফিরে আপন ঘরে ঠাঁই পাচ্ছেন না আমেরিকা প্রবাসী। পৈত্রিক বাড়ী আপনজনের হাতে অবৈধ দখলে চলে যাওয়ায় এখন নিজ ভূমে পরবাসীর মতো জীবনযাপন করছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মাহবুবুল আলম চৌধুরী।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহবুবুল আলম চৌধুরী বলেন, সিলেট নগরীর পীরমহল্লাস্থ প্রভাতী-৩০, শিরীন মঞ্জিল আমার পৈত্রিক বাড়ি। আমার পিতা জীবদ্দশায় মাতা ইকবালুরনেছা চৌধুরীর নামে বিগত ১৯ আগষ্ট ১৯৮৫ সনে ২৫০৩০ নং রেজিস্ট্রার দানপত্র দলিলে উক্ত ভূমি দান করেন। আমার মায়ের মৃত্যুর পর আমরা ৯ ভাইবোন উত্তরাধিকার সূত্রে স্বত্ববান হই। বর্তমানে আমি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছি। প্রবাসে যাবার আগে আমার পৈত্রিক বাড়িতে নিজ অংশে ভাড়াটিয়া হিসেবে রোজিনা আফরোজ আছিয়াকে নিয়োগ করি। রোজিনা মাসিক ভাড়া মূলে তার স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে আমার ভাড়াটিয়াকে প্রাণনাশের হুমকী প্রদান করে ঘর থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়। অবৈধ দখলদার সন্ত্রাসীরা আমার ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ ও গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ ঘটনায় এসএমপির এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়রি করি। (জিডি নং-৭৪৫, তারিখ ১৫/০২/২০২৪ইং।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, তামান্না চৌধুরী ও রেহানা চৌধুরীর ছত্রছায়ায় (১) শাকিল আহমদ (৪০), পিতা- মহরম আলী মিন্টু, সাং- পাহাড়িকা-৭, উত্তর পীরমহল্লা, (২) মোস্তাক আহমদ (৪৮), পিতা- মৃত হাজী আরমান আলী, সাং- শিরিন মঞ্জিল, প্রভাতি ৩০, পীরমহল্লা, (৩) রফিকুল ইসলাম রফিক (৩৮), পিতা- আনু মিয়া, স্থায়ী: সাং- সেলবরষ, থানা- ধর্মপাশা, জেলা- সুনামগঞ্জ, বর্তমান: সাং- প্রভাতি ৩০, শিরিন মঞ্জিল, পীরমহল্লা, (৪) মো. উস্তার, ঠিকানা অজ্ঞাত; গংরা এই সন্ত্রাসী, বেআইনি কার্যক্রম চালিয়েছে।

মাহবুবুল আলম চৌধুরী জানান, গত ১২ নভেম্বর ২০২৪ সালে আমেরিকা হতে সস্ত্রীক দেশে ফিরে আমার নিজ বাড়ীতে প্রবেশের চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা আমাকে বেআইনিভাবে বাঁধা প্রদান করে এবং আমাকে মারধর করার জন্য উদ্যত্ত হয়। অবৈধ দখলদারের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকিতে আমি আমার পৈত্রিক বাড়িতে প্রবেশ ও অবস্থান করতে ব্যর্থ হই। এ ব্যাপারে গত ৩০ নভেম্বর ২০২৪ এসএমপির এয়ারপোর্ট থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছি।

তিনি আরো জানান, ইমেইলের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর বিষয়টি অবহিত করি ও আমার বেদখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের আবেদন জানাই। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ১ ডিসেম্বর ২০২৪ একটি চিঠি সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করে। (স্মারক নং-৪৯.০০.০০০০. ০২৪. ০৪. ০২৬.২৪-৯৮২)। এ চিঠির আলোকে সিলেট জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ এসএমপি, সিলেটের পুলিশ কমিশনার বরাবর অনুরোধ জানান। (স্মারক নং- ০৫.৪৬.৯১০০.০২২.৩১.০০৪.২২.১৫১)। পুলিশ কমিশনার মহোদয় বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে এয়ারপোর্ট থানার ওসিকে জরুরী নিদের্শনা দেন। কিন্তু পরিতাপ ও দুঃখের বিষয় হলো আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম হাতে নেয়নি সংশ্লিষ্টজন।

তিনি আরোও জানান, অবৈধ দখলদারের হাতে বাড়ী-সম্পত্তি বেহাত হওয়ায় মূল্যবান জিনিসপত্র মালামাল আসবাপত্র নষ্ট ও চুরি হওয়াসহ জায়গা-জমির দলিল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজাদি নষ্ট, হারিয়ে যাবার সমূহ আশংকা রয়েছে। তাই যথাশীঘ্রই আমার পৈত্রিক বাড়িটি উদ্ধার করা অতীব জরুরী।

সংবাদ সম্মেলনে মাহবুবুল আলম চৌধুরী ন্যায় বিচারের নিমিত্তে তার সহায়-সম্পত্তি রক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা, পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট