জাবিতে ব্যাটারিচালিত রিকশার ধাক্কায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০২৪

জাবিতে ব্যাটারিচালিত রিকশার ধাক্কায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা করিম রাচির মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান।

সাময়িক বরখাস্তদের মধ্যে আছেন- এস্টেট শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান বাবুল, নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাসেল মিয়া, সহকারী সুপারভাইজার আব্দুস সালাম ও ডিউটি গার্ড মনসুর রহমান প্রামাণিক। দায়িত্বে অবহেলার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার।

এর আগে, এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে উপাচার্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

এদিকে, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা করিম রাচির মৃত্যুতে বুধবার (২০ নভেম্বর) শোক দিবস ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিন সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত থাকবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। সেই সঙ্গে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এরআগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় আফসানা করিম রাচি নামে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহত রাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নতুন কলাভবনে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মী জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ক্যাম্পাসের নতুন কলাভবনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে রাচি রাস্তার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা তাকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় তিনি রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছে আঘাত পান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তৎক্ষণাৎ তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে চিকিৎসক রাচিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর অভিযুক্ত রিকশাচালককে এখনো আটক করা যায়নি। তবে, তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক আরিফুল হক বলেন, আমরা হাসপাতালে গিয়ে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছি। বিস্তারিত তথ্য মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর জানানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষার্থী যে এক মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিল, তার এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা শোকাহত। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত রিকশাচালককে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যানবাহনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ করছি।

এদিকে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা করিম রাচির মৃত্যুর ঘটনায় ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২০ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকটি ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন গেটে অবস্থানরত অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ‘আমার বোন মরল কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘আমরা সবাই রাচির ভাই, রাচি হত্যার বিচার চাই’, ‘আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাইরে?’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

শিক্ষার্থীরা জানান, তারা আট দফা দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছেন। সেগুলো হলো- নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা; ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই কাঠামোগত হত্যার যথাযথ বিচার করা; পর্যাপ্ত সড়কবাতি, ফুটপাত ও গতিরোধক স্থাপন করা এবং যানবাহনের গতি পরিমাপ রাখা; নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া; মেডিকেল সেন্টারের জরুরি সেবার মানোন্নয়ন করা; নিবন্ধনহীন সব যানবাহন ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা এবং নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা; সব রিকশাচালকের প্রশিক্ষণ থাকা সাপেক্ষে নিবন্ধন দেওয়া; অদক্ষ নিরাপত্তাকর্মীদের প্রত্যাহার করা এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল করা। তাদের এই কর্মসূচি চলাকালে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হবে না।

ব্লকেড কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দুর্বার আদি বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল ক্যাম্পাসের মেডিকেলে উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। একজন শিক্ষার্থী যদি ক্যাম্পাসে আহত হন, তাকে ক্যাম্পাসের মেডিকেলে নেওয়ার পর তার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। আফসানার ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। এটিকে প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে হবে। ক্যাম্পাসে শুধু রিকশা নয়, মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণেও কোনো পদক্ষেপ নেই। এ জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছি।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট