শাবিপ্রবির হলে ‘ছাত্রলীগের কক্ষে’ আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিদেশি মদ

প্রকাশিত: ৮:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২৪

শাবিপ্রবির হলে ‘ছাত্রলীগের কক্ষে’ আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিদেশি মদ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) হলে তল্লাশি চালিয়ে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্র, বিদেশি মদ ও গাঁজা উদ্ধার করেছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বেলা ৩টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশনা দিলেও তা না মেনে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। আন্দোলনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলগুলোতে তল্লাশি শুরু করেছেন তারা। বিশেষ করে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত কক্ষগুলোতে তল্লাশি করেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অভিযানে অস্ত্র ও মাদক জব্দ করা হয়।


সরজমিনে দেখা যায়, বিকেল ৪টা থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলগুলোতে তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাশি অভিযানের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রভোস্ট এবং প্রক্টরিয়াল বডিসহ শিক্ষকরা সঙ্গে ছিলেন। এ সময় শাবি ছাত্রলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সজিবুর রহমানের রুমেও তল্লাশি চালানো হয়। সাধারণ সম্পাদকের রুম থেকে মদ ও গাঁজা জব্দ করা হয় এবং শাহপরান হলের সি ব্লকের ৪২৩ নম্বর রুমের আলমারি থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়। পাশাপাশি বেশিরভাগ রুম থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, মদ-গাঁজা জব্দ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে সিন্ডিকেট সভা করে বেলা তিনটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশনা দেয় শাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ। এই নির্দেশনার পরপরই কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা উল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে থাকা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বেলা ৩টার মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়ার অনুরোধ জানিয়ে বিবৃতি দেন।

এর আগে বেলা ২টায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবারের সংঘাতে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে শাবিপ্রবির ফটকের সামনে গায়েবানা জানাজা পড়েন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর মিছিলের মাধ্যমে গোল চত্বরে এসে মিলিত হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। বিক্ষোভ সমাবেশ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের তীব্রতা দেখে ভয় পেয়ে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। আমরা এই সিদ্ধান্ত মানি না। আমরা ক্যাম্পাসে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থী হল ছেড়ে চলে গেছেন। বাকিদের বুঝিয়ে হল ছাড়তে বলা হচ্ছে।’

আন্দোলনের সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ‘আমরা রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’

এদিকে শাবিপ্রবির হল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ  বলেন, ‘আমরা আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু জানি না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানালে আমরা ক্যাম্পাসে গিয়ে এসব উদ্ধার করব।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট