২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২৪
নিজাম ইউ জায়গীরদার : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিলেট বিভাগের ৪২টি থানায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১২১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৭ হাজার নেতাকর্মী আসামি। তাদের অনেকে অনেকে জেলে, আবার অনেকে আদালতে হাজিরা দিয়ে আর বাকীদের পলাতক অবস্থায় দিন যাচ্ছে।
গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়ের হওয়া এসব মামলার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোসহ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। বেশির ভাগ মামলার বাদীও পুলিশ।
বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে কোণঠাসা করতে এসব মামলা করা হয়েছে। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেও এমন অনেক মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে কাল্পনিক অভিযোগে মামলা হয়েছে বলেও দাবি করে আসছে বিএনপি।
কোন থানায় কত মামলা : বিএনপির তথ্য সেল ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবরের পর সিলেট মেট্রোপলিটনের ছয়টি থানাসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মোট ১২১টি মামলা হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সিলেট জেলায় ৬৮টি মামলা হয়। ২৯ অক্টোবর প্রথম মামলা হয় সিলেটের জকিগঞ্জ থানায়। ২৮ অক্টোবর ঢাকার মহাসমাবেশে সংঘর্ষের জেরে ওই দিন রাতে কালীগঞ্জ বাজার রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। ৬৮ মামলার মধ্যে মহানগর পুলিশের ছয়টি থানায় ৪৯টি এবং ১৩ উপজেলায় ১৯টি মামলায় আসামি অজ্ঞাতপরিচয়সহ প্রায় চার হাজার। গাড়ি ভাঙচুর, নাশকতা, বিস্ফোরণ, ট্রেনে আগুন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, সরকারি কাজে বাধা, জনগণের চলাচলে বাধাসহ বিভিন্ন অভিযোগে এসব মামলা হয়েছে। এসব মামলায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন। জামিন পেয়েছেন হাজারখানেক নেতাকর্মী। বাকিরা পলাতক।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮টি মামলা হয় সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায়। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ১ হাজার ৮৯ জন। ৪২৩ জনের নাম উল্লেখ করে ৬৬৬ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়। প্রায় ৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন ২৫ থেকে ৩০ জন।
২৮ অক্টোবরের পর হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় ১৬টি মামলা হয়। এসব মামলায় আসামি হাজার খানেক। গ্রেফতার হয়েছেন শতাধিক নেতাকর্মী। বর্তমানে কারাগারে আছেন ৩০ থেকে ৩৫ জন। সবচেয়ে কম মামলা হয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। এ জেলার বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে ৯টি। এসব মামলায় আসামি ৪০০-৫০০ জন। গ্রেফতার করা হয় ৬০ থেকে ৬৫ জনকে। ইতোমধ্যে জামিন নিয়েছেন বেশ কয়েকজন।
সিলেট বিভাগের চার জেলায় এসব মামলায় আসামিদের অনেকে কারাগারে, কেউবা পলাতক। আবার উচ্চ আদালতে যাচ্ছেন অনেক নেতাকর্মী। গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন মামলায় শতাধিক নেতাকর্মী উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন। কিন্তু অনেকে শুনানির সিরিয়াল পাচ্ছেন না বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।
সিলেট বিভাগের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যে আছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পঙ্কি, জেলা যুবদলের সভাপতি মুমিনুল ইসলাম মুমিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ খান জামাল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী, সদস্য সচিব আফসর খান, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী আহসান। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বেশ কিছু নেতাকর্মী রয়েছেন। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি আবুল মুনসুর মোহাম্মদ শওকত, ছাত্রদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তারেকসহ মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে কিছু নেতাকর্মী জামিন নিয়েছেন। সর্বোচ্চ অর্ধশত মামলার আসামি হয়েছেন সিলেট জেলা ও মহানগর ছাদত্রদলের দুই সাধারণ সম্পাদক।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী প্যানেলের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, আমরা শুধু নেতাকর্মীকে আইনি সহায়তা দিচ্ছি না, যারা আহত হয়েছেন তাদেরও সহায়তা করছি। কারাগারে যারা আছেন তাদের পরিবারের খবরও নেওয়া হচ্ছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D