সৌদীতে নির্যাতনের শিকার শাল্লার রিনা আক্তার, ফিরে আসার আকুতি

প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২৩

সৌদীতে নির্যাতনের শিকার শাল্লার রিনা আক্তার, ফিরে আসার আকুতি

মানব পাচারকারী দালালদের খপ্পরে পড়ে সৌদী আরব গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাওঁ ইউনিয়নের উজানগাঁও গ্রামের মো. রিপন মিয়ার স্ত্রী রিনা আক্তার (৩১)।

অভাব অনটনের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ৫ সন্তানের এই জননী কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার সাকুয়া ভাটিয়া মিরপাড়ার বাসিন্দা মতিউর রহমান মীরের ছেলে দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের শ্যামারচর বাজারে পারভেজ স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিক মো. আলমগীর মীরের সাথে পরিচয় হয় চলতি বছরের গত জানুয়ারী মাসের শেষের দিকে।

তখন এই মানব পাচারকারী আলমগীর মীর তাকে বিনা টাকায় সৌদী আরবের দাম্মামে পাঠানোর প্রলোভন দেখান। ঐ অবলা নারী দালালের কথা বিশ্বাস করে তার দিনমুজুর স্বামী রিপন মিয়ার মাধ্যমে রিনা আক্তার তার নামে পাসপোর্ট বানিয়ে (পাসপোর্ট নম্বর- এ ০৬৪৯৬৩৩০) পাসপোর্টটি দালাল আলমগীর মীর ও সুনামগঞ্জের বিলপাড়ে বসবাসকারী আরেক মানব পাচারকারী দালাল মোস্তাক তালুকদারের সাথে পরিচিত হয়ে পাসপোর্টটি তাদের হাতে তুলে দেন।

কয়েকদিন পরে মানব পাচারকারী আলমগীর মীর ও মোস্তাক তালুকদার ঐ নারী রিনা আক্তারকে ফোনে বলেন যে আপনার ভিসা হয়ে গেছে। পরবর্তীতে চলতি বছরের গত ৫ এপ্রিল রিনা আক্তারকে নিয়ে দালাল চক্র ঢাকায় চলে যান।

সেখান থেকে ৬ এপ্রিল রিনা আক্তারকে ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে একটি এয়ার লাইন্স এর মাধ্যমে সৌদী আরবের দাম্মামের উদ্দেশ্যে ফ্লাইট দেয়া হয়। রিনা আক্তার সৌদী আরবের দাম্মামে পৌছার পর সেখানকার এক আরবীর ঘরের ঝি এর কাজ দেয়া হয় মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনে। রিনা আক্তার দাম্মামে পৌছার পর থেকে গত আড়াই মাসে তার স্বামী রিপন মিয়ার সাথে ২/৩ বার ফোনে আলাপ করলেও একটি টাকাও বেতন দেয়নি বাসার মালিক। পরবর্তীতে বাসার মালিক (আরবী) তাকে আর তার বাড়িতে কথা বলতে নিষেধ করেন।

এদিকে সৌদীর কপিল রিনা আক্তারের উপর চালিয়ে যাচ্ছে শারীরিক নির্যাতনের স্ট্রীমরোলার। এমনকি কারেন্টের তার দিয়ে প্রতিদিন ঐ শ্রমজীবি নারী রিনা আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত করে।

গত ১৬ই জুন রিনা আক্তার কপিলের পায়ে ধরে ফোন দিয়ে তার স্বামী রিপন মিয়ার সাথে কথা বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার উপর বাসার মালিকের শারীরিক নির্যাতনের বর্ণণা দেন এবং তাকে সৌদীর দাম্মাম থেকে যেকোন মূল্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বামীকে অনুরোধ করে। অন্যথায় তাকে যেকোনদিন বাসার মালিক (কপিল) মেরে ফেলতে পারে বলেও তিনি ফোনে আশংঙ্কার কথা জানান।

এ ব্যপারে সৌদীতে মানবেতর জীবনযাপন কারী নারী রিনা আক্তারের স্বামী রিপন মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার স্ত্রীকে সৌদী আরবের দাম্মাম থেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট দাবী জানান। তিনি মানবপাচারকারী দালাল মো. আলমগীর মীর ও সুনামগঞ্জ পৌরশহরের বিলপাড়ে অবস্থানকারী আরেক মানবপাচারকারী মোস্তাক তালুকদারকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রতি আবহান জানান।

এ ব্যাপারে মানব পাচারকারী মো.আলমগীর মীর এবং সুনামগঞ্জের বিলপাড়ের আরেক মানব পাচারকারী মোস্তাক তালুকদারের মোবাইল নম্বরগুলোতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. এহসান শাহ বলেন, নির্যাতিত নারীর স্বামীকে শাল্লা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেন এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।