৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২
স্মরণ কালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ছাতক-সিলেট রেলপথের সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। বানের পানির তীব্র স্রোতে ছাতক-সিলেট ৩৪ কিলোমিটার রেল লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়। ছাতক থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার রেলপথ বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রেলপথের এই অংশ প্রায় লন্ড-ভন্ড হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ স্থানে রেলপথের মাটি-পাথর সরে ঝুলে রয়েছে শ্লীপার।
করোনা মহামারির সময়ে এই রেলপথে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। সম্পুর্ণ চালু অবস্থায় ছাতক-সিলেট রেলপথে রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বন্যার আগপর্যন্ত এই রেলপথে আর রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়নি। এর মধ্যে বন্যায় রেলপথের অধিকাংশ স্থান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফলে এই রেলপথে যাতায়াতকারি ৩ উপজেলার কয়েক লক্ষ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ছাতক-সিলেট রেলপথের সংস্কার কাজ শুরু করেছে। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজটি করে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন এই রেলপথে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর বন্যা পরবর্তীতে রেলপথ সংস্কারের কাজ শুরু হলে জনমনে অনেকটা আশার আলো দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পরে হলেও এই রেলপথ সংস্কার করে আবারো রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
১৯৫৪ সালে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন হতে বর্তমান সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক বাজার রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হয়। ওই সময়ে এই রেলপথের সর্বশেষ স্টেশন হিসেবে ছাতক বাজার রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ করা হয়। আগে এটি ছিলো আখাউড়া-কুলাউড়া-সিলেট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাথর, বালি, চুনাপাথর, কমলালেবুও তেজপাতাসহ বিভিন্ন মালামাল আনা-নেয়ার জন্যই মুলত রেলপথটি নির্মিত হয়েছিলো। পরে এখানের কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল পরিবহন, ছাতক-দোয়ারাবাজার অঞ্চলসহ সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের যাতায়াত সুবিধার ব্যাপক উন্নতি হয় রেলপথের মাধ্যমে। এই অঞ্চলের মানুষের সে সময় থেকেই ছিলো একমাত্র ভরসা রেলপথ। শুরু থেকেই রেল বিভাগের রাজস্ব আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে ছাতক-সিলেট রেলপথটি। ১৯৭৯ সালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের রাজস্ব আয়ে ছাতক বাজার স্টেশন শ্রেষ্ঠত্বের স্থান দখলে করে নেয়।
আগে প্রতিদিনই এই রেলপথে ৩টি ট্রেন যাতায়াত করতো। মাঝে নানান অজুহাত দেখিয়ে কমিয়ে দেয়া হয় ট্রেন ও ট্রেনের বগি সংখ্যা। ট্রেনে করে প্রায় ৪৫ মিনিটে ছাতক থেকে সিলেট পৌঁছানো সম্ভব। ছাতক-সিলেট রেলপথের ট্রেন পথিমধ্যে খাজাঞ্চীগাঁও, সৎপুর ও আফজালাবাদ ষ্টেশনে যাত্রা বিরতি করে। ছাতক অঞ্চল, দোয়ারাবাজার, সিলেটের সৎপুর ও খাজাঞ্চীগাঁও এলাকার হাজার হাজার মানুষের সিলেট শহর ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যোগাযোগের মাধ্যমই ছিলো রেলপথ। শিল্প শহর ছাতক থেকে চুনা পাথর, সিমেন্ট, শ্লীপার, বালু, বোল্ডার পাথরসহ বিভিন্ন মালামাল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতে এই রেলপথে সড়ক পথের চেয়ে পরিবহণ খরচ কয়েক গুণ কম। সিলেট থেকে ছাতক পর্যন্ত রেলপথের দুরত্ব ৩৪ কিলোমিটারের ভাড়া মাত্র ১২ টাকা। ট্রেনের ভাড়া ১২ টাকার বিপরীতে বাস ভাড়া বর্তমানে ৮০ টাকা ও সিএনজি ভাড়া ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা।
সুনামগঞ্জ জেলার সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প ও সহায়তার চাল-গম ইত্যাদি এই রেলপথে পরিবহনেও অনেক সুবিধা। দেশের বিভিন্ন স্হান থেকে রেলপথে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী ছাতক নিয়ে এসে নৌপথে জেলার অন্যান্য উপজেলায় পৌছানো সহজ। এতে ট্রাক ভাড়ার চেয়ে প্রায় কয়েকগুন সরকারি অর্থ সাশ্রয় হতো বলে জানা গেছে। রেলপথটি লাভজনক হওয়ার কারণে পাথর পরিবহনের জন্য দেশে একমাত্র ছাতক- ভোলাগঞ্জ রজ্জুপথ স্থাপন করে রেলওয়ে বিভাগ। এখানে স্থাপিত হয়েছে দেশের একমাত্র সরকারি কংক্রিট শ্লীপার প্ল্যান্ট। দুটি প্রকল্প এখন বন্ধ রয়েছে। ছাতকে রয়েছে রেলওয়ের ৩৫০ একর মুল্যবান ভুমি ও শতাধিক স্থাপনা। ভোলাগঞ্জেও রয়েছে রেলওয়ের বেশ কয়েকটি স্থাপনা ও শতাধিক একর ভুমি। সবই ঠিক-ঠাক শুধু মাত্র রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গুরুত্বপুর্ণ এই রেলপথটি দ্রুত সংস্কার না হলে রেলওয়ের শ্লীপারসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি চুরি হয়ে যাবারও আশংকা রয়েছে। রেল যোগাযোগ না থাকায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে থাকেন না। ফলে রেলওয়ে স্টেশন সহ সরকারি কোটি-কোটি টাকা মুল্যের সম্পদ এখানে অরক্ষিত।
রেলপথ সংস্কার কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপার ভাইজার আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, রেলপথের ব্রিজ গুলোর কাজ করছেন তারা। লাইন মেরামতের কাজ এখনো শুরু হয়নি। ছাতক থেকে সিলেট পর্যন্ত রেল লাইনে ছোট-বড় ব্রিজ রয়েছে ৩৮ টি। এর মধ্যে ছাতক অংশে ১০টি ব্রিজ। ইতিমধ্যে রেলপথের ৩১টি ব্রিজের মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ছাতক রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) জুবায়ের আহমদ জানান, ছাতক-সিলেট রেলপথের সংস্কার কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রেলপথের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে।
রেলওয়ে সিলেটের উপ সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) আব্দুল নুর জানান, বন্যায় এই রেলপথের কোটি-কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। রেলপথ মেরামতের কাজ আরম্ভ করা হয়েছে।এই রেলপথে ফের রেল যোগাযোগ চালু করা হবে।
সিলেটের উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) মোহাম্মদ জুলহাস জানিয়েছেন, রেলপথের ৩৮টি ব্রিজের মধ্যে ৩১টি ব্রিজের মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। ব্রিজের কাজ শেষ হলেই লাইন মেরামতের কাজ আরম্ভ করা হবে। অনেক ক্ষতিগ্রস্থ রেলপথ সংস্কার করতে কিছু সময়ের প্রয়োজন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D