|
প্রকাশিত: ১:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২২
চাকরি পেতে যাচ্ছেন মৌলভীবাজারের শমসেরনগরের সেই সন্তোষ রবিদাস অঞ্জন। এতে সন্তোষ যত খুশি, এর চেয়ে অনেক বেশি সন্তুষ্টি মায়ের। পরম পাওয়ার আনন্দে তার চোখমুখ উজ্জ্বল এবার তার সুখ হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাতউদ্দিন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গতকাল বুধবার সকালে সরকারি খাদ্য সহায়তা নিয়ে সন্তোষদের বাড়ি যান। এছাড়া আগামী রোববার মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সন্তোষকে।
সিফাতউদ্দিন বলেন, ‘মৌলভীবাজারের ডিসি স্যারের নির্দেশে সন্তোষদের বাসায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে চালডালসহ বেশ কিছু খাবার দিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার মায়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তাও দিয়েছি। সন্তোষকে আপাতত খণ্ডকালীন কোনো চাকরি দেওয়া যায় কি না, সেই চেষ্টা করছি। আশা করছি, আগামী রোববার সুখবরটা দিতে পারব।’
এর আগে আনোয়ার গ্রুপের পক্ষ থেকেও সন্তোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) ও ইউনিট এইচআর (সিমেন্ট ডিভিশন) প্রধান মনোজ কুমার সাহা বলেন, ‘আমরা সন্তোষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তার জন্য একটা চাকরির সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বিষয়টি তাদের বিবেচনাধীন।’
মৌলভীবাজারের শমসেরনগরে ফাঁড়ি কানিহাটি চা বাগানের এক শ্রমিক পরিবারে জন্ম সন্তোষ রবিদাস অঞ্জনের। জন্মের মাস ছয়েকের মাথায় বাবাকে হারিয়েছিলেন। মা কমলি রবিদাস চা বাগানের শ্রমিক। তখন মজুরি পেতেন দৈনিক ১৮ টাকা। সেই সময় ছেলেকে অন্যের বাসায় রেখে তিনি চলে যেতেন চা বাগানে।
পঞ্চম শ্রেণির পর ভর্তি পরীক্ষায় পাস করে ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুলে ৫ বছরের জন্য ফ্রি পড়ালেখার সুযোগ পান সন্তোষ। সেখান থেকে এসএসসি পাস করেন সন্তোষ। ২০১৩ সালে ভর্তি হন ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে। সন্তোষের মায়ের মজুরি ছিল তখন ১০২ টাকা। তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ছেলের ভর্তির টাকা, ইউনিফর্ম আর বই-খাতা কিনে দিয়েছিলেন। ২০১৪ ডিসেম্বরে ছিল সন্তোষের এইচএসসির নিবন্ধন। তাঁর মা কমলি রবি দাস তখন ৫০ টাকার একটি নোট দিয়ে চোখের জল ফেলতে ফেলতে বলেছিলেন, ‘দেহি, কেউ ধার দেয়নি রে, বাপ।
কলেজের এক শিক্ষকের কাছ থেকে ধার নিয়ে সেবার নিবন্ধন ফি দেওয়া হয়। এইচএসসির পর ভর্তি পরীক্ষার কোচিং। কমলি তখন আবার ঋণ নিলেন ব্যাংক থেকে। লোনের কিস্তি পরিশোধে বাসা থেকে অনেক দূরে গিয়ে বালু শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এভাবে খেয়ে না খেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে পড়ার সুযোগ পেলেন সন্তোষ।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D