১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২২
হাজার বছরের শৃঙ্খলিত বাঙালীর মুক্তির দিশা নিয়ে জন্ম নিয়েছিল মুজিব নামের এক দেদীপ্যমান আলোক শিখার। এ আলোক শিখা ক্রমে ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র, নিকষ কালো অন্ধকারের মধ্যে পরাধীনতার আগল থেকে মুক্ত করতে পথ দেখাতে থাকে পরাধীন জাতিকে। টুঙ্গিপাড়া গ্রামেই খোকা থেকে জাতির পিতায় পরিণত হওয়া শেখ মুজিবুর রহমান ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা শস্য শ্যামলা রূপসী বাংলাকে দেখেছেন। আবহমান বাংলার আলো-বাতাসে লালিত ও বর্ধিত হয়েছেন ।
১৯৭৩ সালে দৈনিক বাংলার ১৭ মার্চ পত্রিকার শেষের পাতায় হাসিনা আশরাফের একটি লেখা ছাপা হয়— ‘আমি তোমাদেরই লোক’। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার বাড়ির সদস্যদের কাছ থেকে জানা ছোটখাটো অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। যে লেখায় বঙ্গবন্ধুকে চেনা যায়, অচেনা জায়গাগুলো খুঁজে পাওয়া যায়।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বরাতে সেখানে লেখা, ‘জন্মদিন উদযাপন আব্বা কোনওদিন পছন্দ করেন না। আব্বা বলেন যে দেশের মানুষকে জন্মলগ্ন থেকে সংগ্রাম করতে হয় মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিদিনই তো তাদের জন্মদিন। বিশেষ একদিন অথবা বৈশিষ্ট্য মাপার মতো সময় বা অবস্থা তাদের কোথায়? পিতার জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, বিশেষ এই দিনে খুব ভোর থেকে চেনা অচেনা মানুষে ভরে যায় আমাদের বাসা। আশেপাশের রাস্তাঘাট ওরা দু হাত ভরে নিয়ে আসে ফুল। শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় ভরা থাকে ওদের মুখ। হাজার মানুষের সাথে আব্বাকেও কেমন জানি খুব ভালো লাগে আমার এই দিনটিতে।
বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার বরাতে লেখা হয়, আমরা মনেপ্রাণে বাঙালি। বাংলার ঐতিহ্যের সাথে মেশানো প্রতিটি জিনিসকে আব্বা যেমন পছন্দ করেন তেমনি বিদেশি আচার-অনুষ্ঠানকে আব্বা এড়িয়ে চলেন। আব্বা বলেন, জন্মদিন শব্দটার সাথে কেমন যেন বিদেশি ভাব লাগানো। আমাদের বাসাতে তাই কোনও জন্মদিনের উৎসব হয় না। শুধু জন্মদিনে প্রত্যেক প্রভাতেই বাগানের ফুল তাকে আমি উপহার দেই।
বেগম মুজিব উল্লেখ করেন, পরিবারের সকলের জন্মদিনে মিলাদ পড়ানো আমার অভ্যাস। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে আমি মিলাদ পড়াই। এবারও মিলাদ পড়াবো। বঙ্গবন্ধু যখন আমাদের মাঝে থাকেন তার জন্মদিনে কোনও উৎসব হয় না বাসাতে কিন্তু যে কয়টা জন্মদিন তিনি জেলে কাটিয়েছেন সেই মুহূর্তগুলোতে বিশেষ এই দিনটাতে আমাদের সকলের বেশি করে মনে পড়েছে। তাই এই তারিখটা তার সাথে দেখা করার অনুমতি চেয়ে অনেক আগ থেকে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিতাম। একবার কি দুবার পেয়েছিলাম দেখা করার অনুমতি। সে সময় নিয়ে গিয়েছিলাম ফুল, কিছু মিষ্টি এবং গোটা কয়েক বই। সামান্য কটা জিনিস সহজে ছাড়পত্র পায়নি। অনেক কষ্টে যখন উপস্থিত হয়েছি তার সামনে, ভালো লাগার আমেজে চিকচিক করে উঠেছে তার উজ্জ্বল চোখের তারা। নীরবে তাকে জন্মদিনের শুভকামনা জানিয়ে ফিরে এসেছি আমরা।
১৭ মার্চ ১৯৭৩ সালের পত্রিকা
লেখায় অচেনা বঙ্গবন্ধুর ভালো লাগা, মন্দ লাগা উঠে আসে। তিনি বেগম মুজিবের বরাতে বলছেন, সাংসারিক পরিবেশে বঙ্গবন্ধু একান্তই আত্মভোলা খাওয়া-দাওয়া অথবা অন্য কোনও ব্যাপারে কোনও অভিযোগ নেই। বিশেষ কোনও পছন্দ অথবা রুচি সম্পর্কে কোনও প্রশ্ন নেই। এ কারণে বেগম মুজিবকে বঙ্গবন্ধু সমস্ত কিছুর প্রতি খেয়াল রাখতে হয়। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে কোনও অভিযোগ না থাকলেও বেগম মুজিব জানেন বঙ্গবন্ধুর বিশেষ পছন্দ-অপছন্দকে। মাংস অপেক্ষা ছোট মাছের চচ্চড়ি খেতে বঙ্গবন্ধু বেশি ভালবাসতেন। বিভিন্ন তরকারি আলু ভাজা, কলা ভাজা, শাক চচ্চড়ি, চিংড়ি মাছ বঙ্গবন্ধুর বেশি পছন্দ। এমনকি প্রায় প্রতিদিন সকালে পাঁচ তরকারি আর আটার রুটি খেয়ে দুপুরে আবার নিরামিষ খেলে খুশি হতেন। মুখে কোনওদিন প্রিয় খাবার সম্বন্ধে কিছুই বলার নাই। ঘণ্ট খাবার সময় তার উজ্জ্বল চোখ দেখে বুঝতে পারতে হবে যে তার পছন্দের খাবার কোনটা। বিশেষ এক আনন্দঘন মুহূর্তে খাবার টেবিলে বসে চেঁচিয়ে সবাইকে ডেকে বলেন, ‘আজ ডিম ভাজা আলুর সাথে ডাল দিয়ে ভাত খাবো। তাড়াতাড়ি তোরা ডিম ভাজা নিয়ে আয়।’
পরিশেষে আজকে এই পড়ন্ত বেলায় মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ১০২তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি । সেই সাথে ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে নিহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি ও গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি । মহান আল্লাহ তায়ালা যেন পরিবারের সকল সদস্যদের কে শহীদ হিসেবে কবুল করুন আমীন । তাড়ি সাথে বঙ্গকন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিনিমার্ণে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় আলোকে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানাচ্ছি ।
লেখক:-: তৃণমূল কর্মী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ সিলেট মহানগর |√| শিক্ষার্থী-: ল ‘ এডভোকেটশীপ |√|

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D