২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:১৫ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০২১
ফরিদপুরের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মলয় বোস হত্যা মামলার প্রধান আসামী আওয়ামী লীগ নেতা ইমামুল হোসেন তারা মিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ২০১৮ সালের ৩০ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে তিনি ওই ফাঁসির দণ্ড হতে খালাস পেলেও নথিপত্রে ত্রুটির কারণে কারাগার থেকে বের হতে পারছিলেন না।
গত বুধবার (১২ মে) আইনিপ্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্তি পান। এরআগে গত মঙ্গলবার ঢাকা থেকে তার মুক্তির আদেশ সংক্রান্ত নথি ফরিদপুর কারাগারে পৌছায়।
ইমামুল হোসেন তারা মিয়া অবিভক্ত নগরকান্দা-সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি সালথার গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আটঘর ইউপির তৎকালীন চেয়ারম্যান মলয় বোস হত্যা মামলার রায়ে ইমামুল হোসেন তারা মিয়াসহ ৯ জনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ নভেম্বর তিনি ওই মামলা থেকে খালাস পান। তবে উচ্চ আদালতের রায়ে খালাস পেলেও নথিপত্রে ত্রুটি থাকায় দীর্ঘদিনেও তিনি কারামুক্তি পাচ্ছিলেন না। অবশেষে গত মঙ্গলবার ঢাকা থেকে তার মুক্তির আদেশ সংক্রান্ত নথি ফরিদপুর কারাগারে পৌঁছানোর পর তিনি বুধবার আইনিপ্রক্রিয়া শেষে কারামুক্তি পান।
জেলা কারাগার সূত্র জানায়, গত বুধবার (১২ মে) বেলা ১১টার দিকে তিনি ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এরপর সালথা উপজেলার নকুলহাটি বাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মোল্লার নেতৃত্বে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলিম মোল্লা, আটঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান, ফেলু মোল্লা, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবু মঈন বিজয় প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
ওইদিন বিকালে তিনি একটি বিশাল গাড়িরবহর নিয়ে এলাকায় ফেরেন। তার এ কারামুক্তির ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
প্রসঙ্গত, ফরিদপুরের সালথা থানার আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মলয় কুমার বোসকে ২০১২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মলয় বোস আটঘর ইউনিয়নের সাড়ুকদিয়া গ্রামের মৃত মনিন্দ্রনাথ বোসের ছেলে। হত্যার দুই দিন পর ৯ ফেব্রুয়ারি মলয় বোসের স্ত্রী ববিতা বোস বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা তারা মিয়াকে প্রধান আসামী করে ২১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এতে স্থানান্তর করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় বিচার শেষে ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ নয়জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় দেয়। এছাড়া একজনকে ২ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা ছিলেন- ইমামুল হোসেন তারা মিয়া (৬৫), বকুল মাতুব্বর (৩২), মিজানুর মোল্লা (২২), মামুন মাতুব্বর (২৩), হাশেম মোল্লা (৪৭), মোশারফ হোসেন মোল্লা (৩২), মনিরুজ্জামান শেখ (২৮), উজ্জ্বল বেপারী (২৮) ও বেলায়েত হোসেন বেলা(২২)।
আসামিদের মধ্যে আজাদ মোল্লা (৩৮), সোহেল মিয়া (২৬), আমিনুর মাতুব্বর (৩৬), সত্তার মোল্লা (২৫), নজরুল শেখ (২৮), নসরু খান (২৯), হাতেম মোল্লা (৪৫), অলিয়ার রহমান অলি (২৬), ইমরান মাতুব্বর (২৫), আক্কাস শিকদার (২৪), মিরাজ সরদার (২৮), সেন্টু মাতুব্বরকে (২২) যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেন বিচারক।
২০১৮ সালের ৩০ নবেম্বর নিম্ন আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া ৯ আসামির মধ্যে ৫ জনকে ফাঁসির বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত বাকী ৪ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। এছাড়া নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে ৪ জনের সাজা বহাল রাখা হয় এবং বাকীদের খালাস দেন হাইকোর্ট। এ মামলায় সবমিলে সাজাপ্রাপ্ত ২১ আসামির মধ্যে ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। বাকী ১২ জনকে খালাস দেওয়া হয়। অন্যদিকে ২ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর ফকিরকেও খালাস দেওয়া হয়।
বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মবিনের হাইকোর্ট এ রায় দেন।
যাদের মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় তারা হলেন- উজ্জল বেপারী, মিজানুর রহমান, মামুন মাতব্বর, মনিরুজ্জামান শেখ ও বেলায়েত হোসেন। এছাড়া যে চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে তারা হলেন- সাত্তার মোল্লা, আক্কাস শিকদার, নজরুল শেখ ও ইমরান মাতব্বর।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D