পরিবহন ধর্মঘটে অ্যাপসভিত্তিক ট্যাক্সি সেবার প্রসার

প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২০

পরিবহন ধর্মঘটে অ্যাপসভিত্তিক ট্যাক্সি সেবার প্রসার

পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে পাথর ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা বিভাগ জুড়ে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটে দুর্ভোগে পড়েন পর্যটকরাও। মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে ধর্মঘট পালন করে দুই সংগঠন। বুধবারও ধর্মঘট অব্যাহত ছিল।
অপরদিকে, ধর্মঘটের কারণে রিক্সা ও অ্যাপস ভিত্তিক টেক্সিসেবার উপর বেড়ে যায় চাপ। যাত্রীদের চাহিদা থাকায় অনেক ‘উবার’ ও ‘পাঠাও’ সেবাদানাকারী রাইডার অফলাইনে গিয়ে যাত্রীদের সেবা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। এছাড়াও নগরীর আম্বরখানা, মাছিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকে মোটর সাইকেলে যাত্রী পারাপার করছেন ভাড়ার বিনিময়।
‘প্রকৃতিকন্যা’ সিলেটের এখন পর্যটন মওসুম। দেশের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন সিলেটের সৌন্দর্য্যে আকৃষ্ট হয়ে। কিন্তু গতকাল থেকে শুরু হওয়া পরিবহন ধর্মঘটে পর্যটকরা পড়েছেন বিপাকে। বাস-অটোরিক্সা না পাওয়ায় তারা যেতে পারছেন না কোন স্থানেই। কিছু কিছু পর্যটক নিজস্ব বাহন নিয়ে এসেছেন। তবে তাদের সংখ্যা কম। আটকা পড়া পর্যটকরা তাই রিক্সাকে ভরসা মেনে ঘুরে বেড়িয়েছেন চা বাগানসহ নগরীর আশপাশের এলাকায়।
মঙ্গলবার থেকে পর্যটকশুন্য রয়েছে কোম্পানীগঞ্জের সাদা পাথর এলাকা।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা থেকে আসা এনজিওকর্মী সাজ্জাদুল আবেদিন চৌধুরী ও হোটেল ম্যানেজম্যান্ট কর্মী মিনহাজুল আবেদীন রিয়াদ প্রথবারের মতো সিলেটে বেড়াতে এসেছিলেন। কিন্তু ধর্মঘটের কবলে পড়ে তাদের যাওয়া হয়নি কোথাও। গত সোমবার আসা এই দুই পর্যটক রিক্সাযোগেই গতকাল ঘুরে বেড়িয়েছেন শহরতলীর লাক্কাতুরা চা বাগানসহ আশপাশের এলাকায়।
সাজ্জাদুল আবেদিন চৌধুরী বলেন, ‘সিলেটের প্রেমে প্রথমবারের মতো এসেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের শেষ নেই। আগে থেকে জানলে হয়তো আসতাম না এই সময়ে। বাসের টিকিটও নেই। ভাগ্যক্রমে ট্রেনের টিকিট পেয়ে গেছি। তাই ফিরে যাচ্ছি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ পথচারীরা পরিবহন ধর্মঘটের কারণে দুর্ভোগ পোহান। রিক্সার পাশপাশি অনেকে অ্যাপসভিত্তিক টেক্সি সেবাদানকারী ‘উবার’ ও ‘পাঠাও’-এর উপর নির্ভর করছেন। সময় গড়ানোর সাথে সাথে ‘উবার’ ও ‘পাঠাও’-এর রাইডাররা অধিক আয়ের লোভে অ্যাপস থেকে অফলাইনে গিয়ে নিজেরাই যাত্রীদের ডেকে নিচ্ছেন। এতে করে ভাড়ার তারতম্যের পাশপাশি তৈরী হয় বিশৃঙ্খলা। অপরদিকে, বন্দরবাজার, আম্বরখানা ও মাছিমপুরসহ নগরীর বেশকিছু এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে মোটরসাইকেল রাইডাররা ভাড়ার বিনিময়ে যাত্রী পারাপার করছেন। ফলে বাড়তি টাকা দিয়েই যাত্রীরা পার হচ্ছেন। এছাড়া রাইডাররা আইন ভঙ্গ করে একজনের বদলে দুই বা তিনজন যাত্রীও তারা বহন করছেন।
আম্বরখানা এলাকায় থাকা একজন রাইডার গতকাল সন্ধ্যায় জানান, তিনি কোন অ্যাপসভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত নন। প্রায়ই তিনিসহ আরো ১২/১৫ জন এভাবে ভাড়ার বিনিময়ে যাত্রীসেবা দিয়ে থাকেন। পরিবহন ধর্মঘট চলায় গতকাল প্রথম দিনেই আয় হয়েছে প্রায় হাজার খানেক টাকা। তবে তারা অতিরিক্তি টাকা নিচ্ছেন না বলে দাবি করেন।
সিলেট ওসমানী মেডিক্যালে চিকিৎসার জন্য আসা কোম্পানীগঞ্জের ওসমান মিয়া জানান, গত রোববার সিলেট আসছিলেন তিনি। গতকাল বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়েছেন বিপাকে। রিক্সা ও মোটরসাইকেলই তার ভরসা। রিক্সাভাড়াও বেশী নিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট