১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২০
সিলেট নগরের কাস্টঘরে ‘ছিনতাইকারী’ সন্দেহে গণপিটুনিতে রায়হান উদ্দিন (৩৪) নামের যুবক আহত হয়ে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান বলে দাবি করছে পুলিশ। তবে, পুলিশ যেখানে গণপিটুনির কথা বলছে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে এমন কোনও ঘটনার সত্যতা মেলেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর।
এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই যুবককে নির্যাতন করে হত্যা করার অভিযোগ তোলার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
নিহত রায়হান সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার নেহারিপাড়ার গুলতেরা মঞ্জিলের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার দুই মাসের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি নগরের রিকাবীবাজার এলাকায় একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করতেন। শনিবার রাতে কাজ শেষ করে বাসায় ফিরেননি তিনি।
পরে তার ফোনও বন্ধ পান স্বজনরা। ভোররাতে অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন পান তার বড়চাচা হাবিবুল্লাহ। এসময় তিনি জানতে পারেন, রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। এসময় রায়হান তাকে সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকে ‘আমারে বাঁচাওরেবা। আমারে বাঁচাও।’
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ফোন পেয়ে সাথেসাথেই আমি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যাই। তখন সেখানে অবস্থানরত একজন বলেন, সে (রায়হান) ঘুমিয়ে পড়েছে। এখন দেখা করা যাবে না। এরপর পাশ্ববর্তী কুদরতউল্লাহ মসজিদে নামাজ আদায় করে সকালে আবার পুলিশ ফাঁড়িতে যান। ফাঁড়িতে যাওয়ার পর একজন লোক আমাকে বলেন, ‘আপনি ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথাছিলো। টাকা এনেছেন?’ কিছু টাকা এনেছি জানানোর পর তারা আমাকে বসিয়ে রাখেন। এরপর ১০টার দিকে বলেন, ‘আপনার ছেলের শরীর খারাপ করেছিলো। তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। ওসমানী হাসপাতাল গিয়ে তাকে দেখতে পারবেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে তার মৃতদেহ হিমগরে রাখা দেখতে পান।’
তবে পুলিশ তখন গণমাধ্যমকে জানায়, ছিনতাইকারী সন্দেহে কাস্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে আহত হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আর সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
তবে বিষয়টির কোন প্রমাণ ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরা ধরা পড়েনি দাবি করে ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম জানান, ‘কাষ্টঘর এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। প্রাথমিকভাবে সিসি ক্যামেরা যাচাই করে ছিনতাইয়ের ঘটনা কিংবা গণপিটুনির কোনও ঘটনা ফুটেজে ধরা পড়েনি। এমনকি ওই এলাকায় এ বিষয়ে খোঁজ নিয়েও এমন ঘটনার কোনও সত্যতা মেলেনি।’
এদিকে রবিবার (১১ অক্টোবর) এশার নামাজের পর তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় চাচা হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোর্তিময় সরকার জানান, ‘পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ ওঠায় এ ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। নানা বিষয় মাথায় রেখে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ইতোমধ্যে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তদন্ত করা হচ্ছে। সেই সাথে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়েও কাজ করে যাচ্ছে পুলিশের একটি দল।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D