১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২০
২০২০ সাল পৃথিবীর মানুষের জন্যে নানা কারনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ বচরের শুরু থেকেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু। ধীরে ধীরে এই ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে হানা দেয় করোনা ভাইরাস। সারাদেশে শুরু হয় এক অজানা আতঙ্ক। সরকার পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা লকডাউন ঘোষণা করে।
সারাবিশ্ব ও দেশের ন্যায় সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার মানুষ জনেরাও কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন। ঠিক সেই দূর্যোগকালীন সময়ে দেবদূতের মতো মানুষের পাশে সরকারি সহায়তা নিয়ে দাড়ান প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। তাদের পাশাপাশি গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাওঁ, তোয়াকুল, রুস্তুমপুর, লেঙ্গুড়া, পশ্চিম জাফলং, পূর্ব আলীরগাওঁ, পশ্চিম আলীরগাওঁ, ডৌবাড়ী, পুর্ব জাফলং ও ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানরাও সাধ্যমত মানুষের পাশে দাড়ান।
এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে গোয়াইনঘাটের ১১ হাজার পরিবারে ২৫০০ টাকা করে উপহার দেয়া হয়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপির নিজস্ব তহবিল থেকে আরো ২৫০০ পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। যখন করোনা
ভাইরাসের সংক্রমণ গোয়াইনঘাট উপজেলায় দিনে দিনে বৃদ্ধি হতে থাকে ঠিক সেই মূহুর্তে গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় টানা ভারি বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসে চিরচেনা পাহাড়ি ঢল। প্লাবিত হয়ে যায় পুরো গোয়াইঘাট উপজেলা। সড়ক পথে উপজেলা সদরের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক, বঙ্গবীর-হাদারপার সড়ক, জাফলং-গোয়াইনঘাট সড়ক, গোয়াইনঘাট-সারিঘাট সড়ক, হাতিরপাড়া-ফতেহপুর সড়ক, লাফনাউট-বাঘের সড়ক ও সাতাইন-কোওর বাজার সড়ক। উপজেলার এলজিইডি নির্মিত সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতি করে বানের জলে। সেই বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই পরপর আরো দুটি বন্যা হয়।
মঙ্গলবার গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুস সাকিব ও গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থকে সাথে নিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন ও অসহায় পানিবন্দি মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম। তিনি উপজেলার পুর্ব আলীরগাওঁ ও পশ্চিম আলীরগাওঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেন।
জানা যায়, পরপর তিনটি বন্যায় গোয়াইনঘাট উপজেলার কয়েক হাজার বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রায় ২ লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী রয়েছেন। বর্তমানে সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক, বঙ্গবীর-হাদারপার সড়ক, জাফলং-গোয়াইনঘাট সড়ক, হাতিরপাড়া-ফতেহপুর সড়ক, লাফনাউট-বাঘের সড়ক ও সাতাইন-কোওর বাজার সড়কগুলো গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
পরপর এই ৩টি বন্যায় গোয়াইনঘাট উপজেলায় পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসেন সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি। মন্ত্রী ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করে ৭০ টন জিআর চাল, নগদ ১ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্যে ৩৬ হাজার ও গোঁ খাদ্যের জন্যে ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন। প্রতিটি বরাদ্দ যথাযথভাবে বন্টনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে তদারকি করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে মাঠপর্যায়ে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে ট্যাগ অফিসারগনের দায়িত্ব পালন ও নির্বাচিত চেয়ারম্যানগন ও ইউপি সদস্যদের ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, নীতিনৈতিকতা প্রশংসার দাবি রাখে।
বিশেষ করে উপজেলার নন্দীরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল পরপর তিনটি বন্যায় বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে পানি বন্দী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পুরো উপজেলায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তিনি ভারি বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের মধ্যে সরকারি ৫ টন জিআর চাল, ৭০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণের পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আরো ৩০০ পরিবারে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াও পানিবন্দী মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, প্রবাসী সংগঠন ও অনেক সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D