১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২০
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ইসতিয়াক আহমেদ হৃদয়। কিন্তু তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।
করোনা পরিস্থিতিতে জনসেবামূলক কাজ করতে যেয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন হৃদয়। তারপর বাড়ি বসেই তিনি মাত্র ছয় দিনে নিজ চেষ্টায় সুস্থ হয়েছেন এই প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে। সুস্থ হওয়ার পর শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই জানালেন তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।
ইসতিয়াক আহমেদ হৃদয় জানান, আমার কোভিড-১৯ পজিটিভ আসার ছয় থেকে সাত দিনের মধ্যেই আল্লাহর রহমত আর আপনাদের দোয়ায় কোভিড-১৯ নেগেটিভ করতে পেরেছি।
ব্যাপারটা কিছুটা টের পেয়ে অনেক ভাই, বোন, বন্ধুবান্ধব নক দিয়েছেন। খোঁজ খবর নিয়েছেন। আপনাদের দোয়া আর ভালোবাসায় আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ।
তিনি আরো বলেন, অসুস্থতার এই সময়টাতে বাসায় থেকে যতটুকু পেরেছি আমার প্রিয় মাতৃভূমির অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি কিছু করার।
আমার ভিডিওটা শেয়ার করলাম যেন আপনাদের কিছুটা উপকারে আসে।
এখানে তার বক্তব্য তুলে ধরা হলো
আমার করোনাভাইরাস পজেটিভ এসেছিল। পজেটিভ হওয়ার পর থেকে গত ৬ থেকে ৭দিন বাসায় ছিলাম। আজকে আল্লাহ্র রহমতে নেগেটিভ এসছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বিগত কয়েকদিন ধরে জন সেবামূলক কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলাম। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই অবস্থা করেছি। বিগত কয়েকদিনে বেশ কয়েক জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করেছি।
এই কাজের জন্য অধিকাংশ সময় আমার ঘরের বাইরে থাকতে হয়েছে। যে সময়ে আসলে আমার ঘরে থাকা উচিৎ ছিল।
আমার বাবা মা দেশের বাড়ি থেকে প্রতিদিন ফোন দিতেন বাসায় যাবার জন্য। একটা পর্যায় সিদ্ধান্ত নিলাম বাসায় যাব। কিন্তু মনে হলো আমি টেস্ট করে তারপর যাব। টেস্ট করা ছাড়া ঢাকা থেকে আমি আমার এলাকায় যাব না।
সেই দায়বদ্ধতা থেকে টেস্ট করাতে গেলাম। অপ্রত্যাশিতভাবে আমার করোনাভাইরাস পজেটিভ চলে আসে। রাত ১২ টার দিকে আইইডিসিআর থেকে ফোন দিয়ে আমাকে বলে আপনার করোনাভাইরাস পজেটিভ।
পজেটিভ আসার পরে আমি সাথে সাথে যেটি করেছি সেটি হচ্ছে- আমার সাথে বিগত কয়েকদিন যারা ছিল তাদেরকে ফোন দিয়ে, ম্যাসেজ দিয়ে বিষয়টা জানিয়ে দেই। তাদের বলেছি সন্দেহ হলে আপনারা টেস্ট করাতে পারেন অথবা কোয়ারেন্টাইন মানার চেষ্টা করেন। কারণ আমার জন্য কেউ আক্রান্ত হোক আমি চাই না।
আমার পজেটিভ আসে গত ৮ এপ্রিল। তারপর ১৪ এপ্রিল আবার স্যাম্পল দিয়ে আসি। আজ ১৫ এপ্রিল দুপুর বেলা আমাকে জানানো হয় করোনাভাইরাস নেগেটিভ।
তো পজেটিভ থেকে নেগেটিভে আসলো কীভাবে সেটিই আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। প্রথমে আমি নিজেকে একটি ঘরে একা আবদ্ধ করে ফেলি। আমার আশেপাশে কাউকে আসতে দেইনি। একেবারেই একা ছিলাম।
এরপর আমি প্রতিদিন যখন গোসল করতাম। তখন পানি গরম করে নিতাম। সেই পানিতে স্যাভলন মিশিয়ে গোসল করেছি। এই সময়টাতে অবশ্যই গরম পানিতে স্যাভলন মিশিয়ে গোসল করবেন। এটি জীবাণুনাশের জন্য অনেক ভালো কাজে দিবে।
এরপর আমি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই ব্যায়াম করতাম। তার পরপরই গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করতাম। গরম পানি যতটুকু গলায় সহ্য করা যায়। সেই পরিমান গরম পানি সাথে লবন দিয়ে গড়গড়া করতাম। প্রতিদিন দুপুরে এবং ঘুমানোর আগে করতাম। প্রতিদিন এটি ৩ বার করতাম।
আর একটি ব্যাপার যেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে মনে হয়েছে। প্রতি ১ ঘন্টা পরপর গরম পানি খাওয়া। যতটা গরম আপনি সহ্য করতে পারেন। আমি ১ ঘন্টা পরপর এক-দুই গ্লাস করে গরম পানি খেতাম। আমার মনে হয় এটি খুব বেশি কাজে দিয়েছে আমার ভাইরাস দূর করার জন্য।
আর যেগুলো আমরা জানি- ১ ঘন্টা পরপর সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে। যেটি আমি সব সময় করেছি। সব সময় সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতাম। আমার কাপড়-চোপড়গুলো পরিষ্কার করে রাখতাম। রুমটা খুব ভালোভাবে স্যাভলন পানি দিয়ে প্রতিদিন পরিষ্কার করেছি।
আর খাবারের ক্ষেত্রে সব রকম খাবার খাওয়া যাবে। যেটা আইইডিসিআর থেকে আমাকে বলেছে। তবে ভিটামিন সি টা বেশি রাখা ভালো। আমি ট্যাবলেট কেভিট –সি টা খেয়েছি। ১০ ট্যাবলেট থাকে। আমি ৬ টা খেয়েছি মাত্র। আর খেতে হয়নি।
এছাড়া কমলা লেবু, লেবুর শরবত, আপেল, মালটা, নাশপাতি খেয়েছি।
এছাড়াও হৃদয় সবাইকে ভেঙে না পড়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থেকে এই রোগকে মোকাবেলা করতে বলেছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D