সাংগঠনিকভাবে ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকবে আওয়ামী লীগ : কাদের

প্রকাশিত: ১:৩০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০২০

সাংগঠনিকভাবে ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকবে আওয়ামী লীগ : কাদের

ঢাকা উত্তর ও দণি সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে কেন্দ্র পাহারায় থাকবে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকম-লীর সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
এর কারণ ব্যাখ্যা করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে জনগণের আশানুরূপ সাড়া না পেয়ে বিএনপি বিভ্রান্ত নাবিকের মতো আচরণ করছে। বিএনপি নেতারা এবং তাদের প্রার্থীর কথাবার্তা এবং আচরণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের প্রত্য উসকানি পরিলতি হচ্ছে। ভোট রার নামে বিএনপি কেন্দ্রে কেন্দ্রে হট্টগোল করার পাঁয়তারা করছে।
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর আছে, বিএনপি ঢাকার বাইরে থেকে প্রচুর বহিরাগতকে ঢাকায় এনে জড়ো করেছে। এদের মধ্যে দাগী আসামি, চিহ্নিত সন্ত্রাসী রয়েছে। ঢাকায় নিয়ে এসে প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচশর মতো লোক রাখার পাঁয়তারা করছে। ভোট রার নামে তাদের এই অভিসন্ধি আমরা জানতে পেরেছি। তারা এই বহিরাহগদের দিয়ে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে হট্টগুল পাকিয়ে নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা করছে। নির্বাচন বানচালের নীলনকশা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র করছে।’
‘এ কারণে আমরা তথ্য পাওয়ার পর, আমরা সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি, যাতে জনগণ ইচ্ছেমতো, যাকে ইচ্ছে তাকে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়। নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতেও আমাদের নেতাকর্মীরা সতর্ক পাহারা দেবে। যাতে জনগণের ভোট রার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করতে পারি।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, ‘আমরা চাই কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকুক। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করবে। আমরাদেরও দায়িত্ব আছে, জনগণ যেন যাকে খুশি তাকে ভয়ভীতি মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারে। সে ব্যপারে সাংগঠনিকভাবে আমরাও নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিচ্ছি।’
এ ধরনের উদ্যোগের ফলে সংঘাতের আশঙ্কা থাকে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা তো ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য, জনগণকে সহযোগিতা করার জন্য মাঠে থাকব, কারো সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টি করার জন্য নেতাকর্মীদের কোনো নির্দেশনা দেইনি। আমাদের উদ্দেশ্য জনগণ ভোট দিতে আসবে ভোটের পরিবেশ যেন বিঘ্নিত না হয়। আমরা এখানে প্রতিপরে সঙ্গে কোনোরকম সংঘাত-সংঘর্ষে যাব না।’

‘ইভিএমের মাধ্যমে সরকার কারচুপি করার স্ণূ পথ বের করেছে’- বিএনপির এমন অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি মনে করি, কারচুপি ঠেকানের কৌশল হিসেবে ইভিএম হচ্ছে উত্তম ব্যবস্থা। এটা তারা মনে করতে পারে কারণ, তারা এখনো এনালগে রয়ে গেছে। তারা এখনো ডিজিটালে আসতে পারেনি। তারা আধুনিক প্রযুক্তি পছন্দ করে না। কারণ তারা নিজেরাই সেই অন্ধকারে রয়ে গেছে। বিএনপি  ইলেকশন বলতে বুঝে কেন্দ্রদখল, ভোট কারচুপি- এসবই তাদের নির্বাচন ছিল। নির্বাচন কারচুপিমুক্ত হবে এটা তারা কখনো চিন্তা করে না। তারা কেন্দ্র দখলের রাজনীতি অতীতে করেছে। কেন্দ্র দখল, জবরদখল এবং ভোট দখলের কোনো সুযোগ ইভিএমে নেই। এখানেই হচ্ছে বিএনপির মূল ভয়ের কারণ।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত  ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, শিা ও মানব সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, আইন সম্পাদক নজিবুল্লা হিরু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকী, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় সদস্য রিয়াজুল কবির কাওসার, শাহাবউদ্দিন ফরাজী।