১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯
এস আর অনি চৌধুরী : কুলাউড়ার পৃথিমপাশার জমিদার বাড়ি বা পৃথিমপাশার নবাব বাড়ি। স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘সাব বাড়ি’। জমিদারির অনেক স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক এই বাড়িতে এখনো উত্তরাধিকারীরা বসবাস করছেন।
কয়েকশ বছরের পুরনো কারুকার্যসমৃদ্ধ স্থাপনাগুলো যেন পুরনো জৌলুস নিয়ে কোনোরকম তার অতীত ঐতিহ্যকে আঁকড়ে আছে। এমন জৌলুস বাড়ির মতো জীবন্ত বাড়ি সিলেট বিভাগে দ্বিতীয়টি সম্ভবত নেই।
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের এই জমিদার বাড়ি ভ্রমণ পিপাসুদের কাছেও ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পৃথিমপাশার এই জমিদার বাড়ি বাইরে থেকে একটি মনে হলেও বাস্তবে ভেতরে রয়েছে দুটি বাড়ি। আলী আমজদ খানের উত্তরাধিকারী আলী হায়দান খান ও আলী আজগর খানের আমল থেকে দুটি বাড়িতে বিভক্ত হয়। তবে বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভেতরের বিভক্তি।
প্রায় ৩৫ একর জায়গাজুড়ে সুবিশাল সাজানো-গোছানো জমিদার বাড়িটির স্থাপত্য শিল্পের কারুকার্য এখনও নজর কাড়ে। পুরনো কয়েকটি স্থাপনার সঙ্গে রয়েছে জমিদার নির্মিত শিয়া সম্প্রদায়ের একটি চমৎকার নকশা খচিত ইমামবাড়া। প্রত্যেকটি স্থাপনাতে আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট। পাশেই রয়েছে চমৎকার শান বাঁধানো ঘাটসহ সুবিশাল দীঘি।এই বাড়ির ভেতর সবকিছু পুরনো আমলের কারুকাজ খচিত হলেও সেগুলো পরিষ্কার ঝকঝকেই আছে এখনও।
জমিদারদের ব্যবহার করা অনেক জিনিসপত্র রয়েছে এ বাড়িতে। রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য এখানে লোক রয়েছে। আলী আমজাদ খানের উত্তরসূরিরাই দেখাশুনা করেন বাড়িটি। জমিদার বাড়ির ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে জানতে কথা হয় জমিদারদের বর্তমান উত্তরসূরি এবং মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের তিন বারের সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান এবং তার চাচাত ভাই নবাবজাদা আলী ওয়াজেদ খান বাবুর সঙ্গে। কিভাবে তারা বংশপরম্পরায় এখনও টিকে আছেন?
এমন প্রশ্নের খুব সহজ সরল উত্তর দেন বর্তমান উত্তরসূরি দুই নবাব। তাদের মতে, পৃথিমপাশার জমিদাররা মূলত ইসলাম ধর্ম প্রচার করেছেন। নিজেদের প্রথার বাইরে গিয়ে তারা মানুষের কল্যাণে বা মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করায় এই অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে একটা শ্রদ্ধার জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন বলেই, তারা টিকে আছেন।
বর্তমানে ধর্মীয় কাজ খুব একটা পরিচালিত না হলেও মানবসেবার কাজ অব্যাহত আছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতার লাভের পর ১১টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে চারবার এই জমিদার পরিবারের লোকজন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানও অসংখ্যবার নির্বাচিত হন এই পরিবার থেকে।
এখনও মানুষ তাদের ভালোবাসে এবং সম্মান ও মর্যাদা দেয়। এখনও পৃথিমপাশার জমিদার বাড়িতে প্রতিনিয়ত মানুষের ভিড় জমে। কেউ আসেন দেখতে। কেউ নান্দনিক সৌন্দর্যের সঙ্গে নিজেকে জড়িতে একটি ফ্রেমে বেঁধে রাখতে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D