১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৯
আশরাফুল ইসলাম ইমরান : সাউথ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দক্ষিণ সুরমার এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবক উপজেলার মোগলাবাজার থানাধীন দাউদপুর ইউনিয়নের পূর্ব ঝাপা গ্রামের মরহুম ডা: সামছুল হকের ছেলে হাফিজুর রহমান সুমন (৩০)। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২২ জুন শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় সাউথ আফ্রিকার কেপটাউন শহরের সামারষ্ট্যান্ড এলাকায়।
জানা যায়, নিহত সুমন আহমদ সাউথ আফ্রিকার সামারষ্ট্যান্ড থেকে আরো ২ বাংলাদেশী সহ কার যোগে কেপটাউন শহরে আসছিল। শহরের সামারষ্ট্যান্ড এলাকায় পিছন থেকে অপর একটি গাড়ী তাদের গাড়ীকে ধাক্কা দেয়। এ সময় সামন থেকে অপর আরেকটি গাড়ীও তাদের গাড়ীর সাথে ধাক্কা লাগে। এ সময় নিহত সুমান আহমদের বহনকারী গাড়ীটি সড়কের মধ্যে উল্টে গিয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে সুমন আহমদ ও ঢাকার মুন্সিগঞ্জ এলাকার সজিব আহমদ নামের অপর এক যুবক নিহত হন। আহত হন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর এলাকার নিমার আলী ও গাড়ী চালক সাউথ আফ্রিকার বাসিন্দা এক মহিলা। আহত দুজনকে সেখানকার লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এদিকে দক্ষিণ সুরমার সুমনের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার পরিবারের মধ্যে নেমে আসে শোকের মাতম। পাশাপাশি এলাকায় বইছে শোকের ছায়া। প্রাণ চাঞ্চল্য ক্রীড়াপ্রেমি সুমনের মৃত্যুতে তার সহপাঠিদেরও কান্না থামছে না। কে দিবে কাকে শান্ত¡না, সবাই শোকাহত। সুমনের সত্তরোর্ধ বৃদ্ধা মা মোছা: ময়মুনা বিবি কাঁদতে কাঁদতে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। বলছেন আমার সোনাকে আমার কাছে এনে দাও। কাঁদতে কাঁদতে এখন আর কান্না আসছে না, বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
গতকাল রোববার নিহত সুমন আহমদের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, শোকার্ত মানুষের ঢল। সুমনের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও এলাকার মানুষ জড়ো হয়ে আর্তনাদ করছেন। বিশেষ করে সুমনের ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে প্রলাপ করে কাঁদছেন। এক/দেড় মাস পর তার দেশে আসা কথা ছিল। দেশে আসা হয়নি, সে চলে গেছে না ফেরার দেশে। সুমনের ভাই রিমন আহমদ জানায়, তাদের ৭ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সুমন ছিল ৯ম ভাই।
২০১৪ সালের ১৪ মার্চ জীবিকার তাগিদে সুমন পাড়ি দেয় সাউথ আফ্রিকায়। সেখানে তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে করেছিল। আয়-রোজগারও করছিল বেশ ভালো। আর কিছুদিন পরে দেশে আসার কথা ছিল তার। সুমন তার বন্ধু-বান্ধবদের জানিয়েছিল দেশে এসে বিয়ে করবে। বিধি বাম আশা পূরণ হয়নি সুমনের।
সাউথ আফ্রিকায় যাওয়ার আগে সুমন তার মরহুম বাবার প্রতিষ্ঠান রাখালগঞ্জস্থ শাহিদা ফার্মেসীতে সে ডাক্তারী করতো। এ সময় সে এলএমএফ কোর্সও শেষ করে। ফার্মেসীতে ডাক্তারী করার পাশাপাশি সে খেলাধুলায়ও মত্ত থাকতো। ক্রিকেট খেলা সে খুব ভালো জানতো। সেই সুবাদে এলাকায় তার অনেক সুনামও পরিচয় রয়েছে। শান্তশিষ্ট সুমনের মৃত্যুর খবর পেয়ে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সুমনের লাশ কেপটাউন শহরের একটি হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। সাউথ আফ্রিকায় বসবাসরত রাখালগঞ্জ এলাকার লোকজন তার লাশ দ্রুত দেশে পাঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D