৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৯
ব্যাংক খাত নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্যাংকে টাকা থাকলেও তা লুট হচ্ছে না। ব্যাংকের টাকা যারা লুট করেছেন, তারা দেশান্তরি অথবা দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেদ্রের বালিশ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রকৌশলী ছাত্রদলের নেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
অসুস্থ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পক্ষে বাজেট উপস্থাপন ও সংবাদ সম্মেলনের পর সোমবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, বলা হচ্ছে, ব্যাংকে টাকা নেই। ব্যাংকে টাকা থাকবে না কেন? অবশ্যই টাকা আছে। তবে, লুটে খাওয়ার টাকা নেই।
তিনি বলেন, ‘ব্যাংকখাত যারা লুট করে নিয়ে গেছেন, তারা দেশান্তরি হয়েছেন অথবা দুর্নীতির দায়ে মামলায় কারাগারে বন্দি। ব্যাংক থেকে নিয়ে তারা (টাকা) দেননি। এ রকম বহু ঘটনা আছে। সময় এলে এ ব্যাপারে আরও আলোচনা করতে পারবো।’
সংসদ নেতা বলেন, ‘বাজেট নিয়ে ভেতরে-বাইরে অনেক কথা হচ্ছে। কেউ কেউ এমনও বলছেন, বাজেট নাকি কিছুই না। যারা এ ধরনের মানসিকতা নিয়ে কথা বলছেন, তাদের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন- বাজেট যদি সঠিক না হবে, তাহলে মাত্র ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এত উন্নতি করলো কী করে?’
‘কেউ কেউ বলছেন, বাজেট দিয়েছেন, বাস্তবায়ন করতে পারিনি। তা যদি বলেন, তাহলে ২০০৮ সালে মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেয়েছিলাম আজকে সেখানে ৫ লাখ কোটি টাকার ওপরে চলে গেছি। বাস্তবায়নের দক্ষতা না থাকলে এটা করলাম কীভাবে?’
তিনি বলেন, ‘সরকারের উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্য ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়। আর এই প্রাক্কলন করতে গিয়ে সঙ্গত কারণেই আমরা কিছুটা বেশি করি। রাজস্ব আদায়ে খানিকটা উচ্চাভিলাষী হওয়ার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। আমাদের সমৃদ্ধির পথে গত এক দশকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অসম্ভবকে সম্ভব করা, অজেয়কে জয় করা, দুর্ভেদ্যকে ভেদ করারই গল্প। আমাদের উচ্চাভিলাষ না থাকলে এসব অর্জন সম্ভব হতো না।’
‘বাস্তবতার কারণেই বাজেটে কিছুটা সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন, পরিবর্ধনের প্রয়োজন হয় এবং প্রতি বছরই এটা করা হয়। বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ অনুমান করেছিলাম। সংশোধিত বাজেটে তা আমরা ৮.১৩ শতাংশ হবে বলে আজ অনুমান করছি। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৬ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছিল, এটি আমরা সাফল্যজনকভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হবো বলেও আশা করছি। মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অনুমান করা হলেও সংশোধিত মূল্যস্ফীতি ধারণা করা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। বাজেট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অত্যন্ত সতর্ক থাকার কারণেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলেই আমরা উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছি। এটা দেখে সারা বিশ্ব আজ অবাক হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে এখন উন্নয়নের বিস্ময়। যেখানে যাই, সেখানেই সেই কদরটা পাই। দেশবাসী সেই সম্মানটা পায়। কাজেই অযথা কিছু কথা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না করাই ভালো। আমরা কাজই না করলে দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে নেমে আসত না। আমরা এই ২১ শতাংশ থেকে আরও নামিয়ে আনবো। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমরাও এগিয়ে যাবো।’
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় খাতে দাবির বিষয়ে সংসদ সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের অনুপস্থিতিতেও জবাব দেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘বালিশ নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তার কিছু পরিচয় পেয়েছি। এক সময়ে তিনি বুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। জন্ম থেকেই দুর্নীতি তাদের চরিত্রে আছে। এ কারণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মোস্তাকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত হয়েছিলেন।’
এমপিদের একাধিকবার প্লট দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতোবার এমপি হবেন, ততোবার প্লট বরাদ্দ দিতে হবে। আমি সাতবারের এমপি, কিন্তু একবারও প্লট পাইনি। একবারই একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কিনে দিয়েছিল আমার দল। দল সেদিন এই গাড়িটি কিনে দিয়েছিল বলেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম। কাজেই প্রতিবার প্লট পেতে হবে এটা ঠিক না। আবার স্বামী এমপি হলে প্লট পাবেন, স্ত্রী এমপি হলে প্লট পাবেন। এটা ঠিক নয়।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের আগে দীর্ঘদিন যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, তারা জঞ্জাল ছড়িয়ে রেখে গেছেন। আমরা সেগুলো ঠিক করছি। দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। বনানীর ভবন অগ্নিকাণ্ডের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই ভবনের মালিক কিন্তু বিএনপি ঘরানার লোক। রাজধানীর লেকগুলো প্রথমে জিয়া, তারপর এরশাদ ও খালেদা জিয়া ভরাট করেন। ঢাকা একটি পুরনো শহর। ঢাকাকে তিলোত্তমা শহর করে দেওয়া সম্ভব না। তারপরেও যতোটুকু সম্ভব আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D