ঐক্যফ্রন্টকে সুসংহত করে জনগণের ক্ষমতা তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে : ড. কামাল

প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৮

ঐক্যফ্রন্টকে সুসংহত করে জনগণের ক্ষমতা তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে : ড. কামাল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সুসংহত করে জনগণের ক্ষমতা তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে।

শনিবার বিকেলে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, চলমান অপশাসন দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্র চলছে। সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিবে কিনা তা আগামী ৫ নভেম্বর দুপুরের মধ্যে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন দলের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আসুন, এই ঐক্যকে আমরা আরো সুসংহত করি। এখনো যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব আমাদের মাঝে আছেন, সবাইকে নিয়ে ইনশাল্লাহ আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব।

এদিকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অনুষ্ঠানে বলেন, চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আবারো সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চায় ঐক্যফ্রন্ট। তিনি বলেন, ‘সমাধান করতে চায় না। যেকোনো প্রকারে ক্ষমতায় থাকতে চায়। এই সংলাপ দেখেছেন কেন? যখন মানুষ এই রকম করে জেগে উঠেছে, তখন জাগ্রত জনতার ওপর একটা নিরাশার পানি ছিটিয়ে দেওয়ার জন্য সংলাপ ডেকেছে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মোহসীন মন্টু, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর আহমেদ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

এর আগে ১ নভেম্বর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্টকে নীতিগত সমর্থন দিয়েছেন বলে জানানন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

তবে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সম্পৃক্ত হবেন কী না, তা দলের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে জানাবেন।

বুধবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতির বাসভবনে নৈশভোজ শেষে এ কথা জানান ড. কামাল হোসেন।

ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা সরকারকে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমরা যাচ্ছি সংলাপে। সবাই মিলে চেষ্টা করবো অর্থপূর্ণ আলোচনা করতে, যাতে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অগ্রগতি লাভ করতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে একটা নির্বাচন হয়েছিল প্রয়োজন মেটানোর জন্য। ৫ বছর কেটে গেছে এখন তো আর সময় নেই। আমরা যদি সময় মতো নির্বাচন করতে না পারি তাহলে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে কাদের সিদ্দিকীর সমর্থন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, ‘উনার কাছ থেকে নীতিগত সমর্থন পেয়েছি।’

এর আগে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা দেশে একটি অর্থবহ পরিবর্তন চাই। ড. কামাল হোসেনরা যে যাত্রা শুরু করেছেন, তাতে আমরা চিন্তা করছি আমাদের কী করণীয়। ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবসে আমরা একটি আলোচনা সভা করব। সেখানে ড. কামাল হোসেন প্রধান অতিথি থাকবেন। আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা. জাফরুল্লাহসহ অনেকেই থাকবেন। সভায় আমরা দলের মতামত ব্যক্ত করব।’

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাসায় দাওয়াতে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল ছাড়াও দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে তারা মোহাম্মদপুরে কাদের সিদ্দিকীর বাসায় পৌঁছান।

চলমান রাজনৈতিক ইস্যুতে গণফোরাম ও জেএসডির নেতারা কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে আলোচনা করেন।

২৫ অক্টোবর রাতে কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় গিয়ে তাকে দাওয়াত দিয়ে আসেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

সেদিন তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ড. কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সংবিধান রচনা করেছেন। এখন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে। আমরা এখন একসঙ্গে কাজ করতে চাই।