১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১, ২০১৮
কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় দায়িত্বরত বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর এক সদস্য রাশেদুল ইসলামকে বেদম প্রহারের পর নিজের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে গেলেন এক ছাত্রলীগ নেতা। সেই ছাত্রলীগ নেতা নিজের দাপট বুঝানোর জন্য এবং তাকে মনে রাখার জন্যই এই ভিজিটিং কার্ড দিয়েছেন বলে জানান ওই পুলিশ সদস্য।
ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম শাহজামান বিন শহীদ ওরফে অন্তর। তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতা ও তার অনুসারীরা এ তাণ্ডব চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ঢুকে কর্মরত নারী চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পর ভাঙচুর করা হয় চিকিৎসকদের কক্ষ। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান হাসপাতালের দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য। তারও গায়ে হাত তোলা হয়। এরপর তার জামা টেনে ধরে চাকরিচ্যুত করা হুমকি দেওয়া হয়। এসব করেছেন ছাত্রলীগের নেতা শাহজামান বিন শহীদ ওরফে অন্তর ও তার অনুসারীরা। তবে শাহজামানকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ।
হাসপাতালের নিচতলায় মেডিসিন ওয়ার্ডের পাশে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কক্ষ। সেখানে বসেছিলেন চিকিৎসক ইশরাত হুমায়রা। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছয় থেকে আটজন তরুণ কক্ষে প্রবেশ করে উচ্চ স্বরে কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও আপত্তিকর কথা বলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক যুবক আমার ডান হাত মুচড়ে ধরেন। পরে তারা কক্ষের জানালা ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে ছুটে আসেন হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য রাশেদুল ইসলাম।’
রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘কক্ষের ভেতরে থাকা যুবকদের মধ্যে কয়েকজনকে চিনতে পারি। কী হয়েছে জানতে চাওয়ায় এক যুবক ছুটে এসে আমার ওপর চড়াও হন। তাদের শান্ত হতে বললে এক যুবক জামা ধরে টান দেন এবং বলেন, তোর মতো পুলিশের চাকরি যেকোনো সময় খেতে পারি। এরপর তিনি শারীরিকভাবে আমাকে লাঞ্ছিত করেন।’
ভাঙচুর করে যাওয়ার সময় ভিজিটিং কার্ড ছুড়ে মেরে পুলিশ সদস্যকে শাসানো হয়। রাশেদুল ইসলাম আরও বলেন, কয়েক মিনিটে ভাঙচুরের পর তারা চলে যান। যাওয়ার সময় এক যুবক (অন্তর) পকেট থেকে ভিজিটিং কার্ড ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘এই দ্যাখ, চিনে রাখ, এটা তোর বাপজান।’
খবর পেয়ে সেখানে যান হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) তাপস কুমার সরকার। তিনি বলেন, ‘ঘটনা সব শোনা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ মাহবুব উল আলম হানিফ সাহেবকে জানানো হয়েছে। তিনি অন্তরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় নেওয়া হবে।’
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করে তাপস কুমার সরকার বলেন, ওই রোগীর বয়স ৬০ বছর। তার মৃত্যুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা নেই।
এদিকে হাসপাতালে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবিতে আজ বিকেল পাঁচটা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘ভিজিটিং কার্ডটি উদ্ধার করা হয়েছে। দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্তরকে আটকের চেষ্টা চলছে।’
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদ বলেন, ঘটনা শুনে শাহজামান অন্তরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে সহযোগিতা করবে ছাত্রলীগ।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D