২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:২১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০১৭
হোটেল সোনারগাঁওয়ে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বৈঠকটি শুরু হয়ে প্রায় ঘন্টাব্যাপি চলে বলে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি জেরুজালেম ও দুদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানান বিএনপির মহাসচিব।
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদ, ইনামুল হক চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ফখরুল ইসলাম বলেন, ফিলিস্তিনের রাজধানী জেরুজালেম—এই প্রশ্নে তুরস্ক সম্পূর্ণভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে রয়েছে। সে অনুসারে তুরস্ক কাজ করছে।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি কেমন চলছে, আসন্ন নির্বাচনে কী অবস্থা দাঁড়াবে এবং নির্বাচনে বিএনপির ভূমিকা কী থাকবে—এসবের পাশাপাশি বর্তমানে সরকারের ভূমিকা কেমন আছে এবং দেশ কেমন চলছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সরকার কী ভূমিকা পালন করছে, তা নিয়েও কথা হয়েছে। এসব বিষয় ছাড়া তুরস্কের সঙ্গে পারস্পরিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ সময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ফখরুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তুরস্ক মনে করে, রোহিঙ্গাদের সসম্মানে তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এ বিষয়টির পুরোপুরিভাবে একটি স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করে তুরস্ক। এ ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে তুরস্ক যোগাযোগ রক্ষা করছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে, সে সমস্যাগুলোর সরেজমিনে দেখার জন্য। রোহিঙ্গাদের কীভাবে তাদের নিজ দেশে সম্মানের সঙ্গে, নিরাপত্তার সঙ্গে ফেরত পাঠানো যায়—সে জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলতে তারা এখানে এসেছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম থেকেই তুরস্কের জনগণ রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। রোহিঙ্গারা যেন তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য তুরস্ক প্রথম থেকে কাজ করছে। এ কারণে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং তারপর বিষয়টি গোটা বিশ্বে নাড়া দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে দুই দিনের সরকারি সফরে সোমবার রাতে ঢাকায় আসেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। মঙ্গলবার দিনভর তিনি ঢাকায় ব্যস্ত সময় কাটান। সফরে রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে বুধবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেন্টার থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯ থেকে ২০ ডিসেম্বর তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সফরে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নিবেন বলে জানানো হয়।
এতে বলা হয়, তার সফরে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে যে সম্পর্ক রয়েছে তা ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হবে। এছাড়াও, আঞ্চলিক বিষয়, বিশেষত রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মত বিনিময় করা হবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় তার সরকারি বৈঠকের পর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাবেন তিনি।
গত ২৫ আগস্ট মায়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ জঙ্গিদের পৈশাচিক নির্যাতন আর গণহত্যার মুখে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে ইলদিরিম যেখানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। একই সঙ্গে তিনি কক্সবাজারের নিয়োজিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেয়া আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার পাশাপাশি তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (টিআইকেএ), তুর্কি দুর্যোগ এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএফএডি) এবং তুর্কি রেলিজিয়াস অধিদপ্তরের কার্যক্রম ঘুরে দেখবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্য নিহত হয়। এরপর সন্ত্রাস দমনের নামে রাখাইনে অভিযান শুরু করে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে।
কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, রাখাইনে ১০০ কিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।
৯২ শতাংশ রোহিঙ্গাই বলেছে, সেনা অভিযানের সময় তারা চরম নিপীড়নের শিকার হয়েছে অথবা অন্যকে নিপীড়িত হতে দেখেছে। হত্যা, ধর্ষণ আর অগ্নিসংযোগ ছাড়াও রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামগুলোয় অভিযানের সময় ডাকাতি ও লুটতরাজের ঘটনাও ঘটেছে।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার আর ধরপাকড় তো নিয়মিত ঘটনা ছিল। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই পুলিশ আর সেনারা যাকে খুশি তাকে ধরে নিয়ে যেত। এভাবে নিখোঁজ হওয়া অনেকেই এখনো পরিবারের কাছে ফিরে আসেনি বলে জানায় রোহিঙ্গারা। এসব ছাড়াও কারফিউ এবং চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ তো ছিলই।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D