দেশের পরিস্থিতি নৈরাজ্যকর

প্রকাশিত: ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৭

দেশের পরিস্থিতি নৈরাজ্যকর

মহান বিজয় দিবসে খালেদা জিয়া ॥ মাতৃভূমি শত্রমুক্ত হলেও চক্রান্ত চলছে ॥ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র বিপদ মুক্ত করতে চাই জাতীয় ঐক্য

 

মহান বিজয় দিবস আজ। আমাদের প্রিয় এই দেশের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম গৌরব অর্জন ও অহঙ্কারের দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে এ জাতির বীরত্বের আত্মপ্রকাশের দিন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমেই ১৯৭১ সালের এইদিনে বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম হয় নতুন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল এক বাণীতে বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এতো রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এদেশের শাশ্বত গণতন্ত্র আজ নিরুদ্দেশ। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ভয়ঙ্কর নৈরাজ্যময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অশুভ শক্তির হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে বিপদমুক্ত করতে স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান হয়ে আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বাণীতে আরো বলেন, ‘মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আমি প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দেশবাসী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তাদের অব্যাহত সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করি। আজকের এইদিনে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেসব অকুতোভয় বীর শহীদদের কথা, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন স্বদেশভূমি পেয়েছি। আমি স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করি। পরাধীনতার হাত থেকে দেশের বিজয় অর্জনে যেসব মা-বোন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আমি তাদের জানাই সশ্রদ্ধ সালাম।’ বাণীতে বেগম খালেদা জিয়া আরো বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে শুরু হওয়া স্বাধীনতা যুদ্ধ ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে দেশের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ী হয়। তাই ১৬ ডিসেম্বর আমাদের গর্বিত এবং মহিমান্বিত বিজয় দিবস। এদেশের দামাল ছেলেরা হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার সূর্য। আজকের এ মহান দিনে আমি সেসব অকুতোভয় বীর সেনাদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই।’ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, শোষণ-বঞ্চনামুক্ত একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়েই ১৯৭১-এ এদেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় আমাদের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছে, জনগণের মৌলিক ও মানবিক অধিকার খর্ব হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই এদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। : তিনি বলেন, ‘১৯৭১-এ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হলেও চক্রান্তকারীদের চক্রান্ত আজও বিদ্যমান। আধিপত্যবাদী শক্তি আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে গ্রাস করে আমাদের একটি পদানত জাতিতে পরিণত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত। ওই অপশক্তির এদেশীয় দোসররা নানাবিধ চক্রান্তজাল রচনা করে আমাদের বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বিপন্ন করে চলেছে। ৫ জানুয়ারি ২০১৪-তে প্রহসনের একতরফা নির্বাচন করে জনমতকে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। এদেশে এখন মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা নেই। এদেশের মানুষ এখন অধিকারহারা। এদেশে শাশ্বত গণতন্ত্র নিরুদ্দেশ করা হয়েছে।’ বাণীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘গণতন্ত্রহীন দেশে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার দাপটে সর্বত্র হতাশা, ভয় আর নৈরাজ্যের অন্ধকার নেমে এসেছে। ক্ষমতা জবরদখলকারীরা জনগণের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালিয়ে হত্যা করছে। বর্তমান পরিস্থিতি যেন ভয়ঙ্কর নৈরাজ্যময়। এই অশুভ শক্তির নীলনকশা বাস্তবায়নে রক্তপাতের ওপরই নির্ভর করা হচ্ছে। ওদের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে বিপদমুক্ত করতে স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান হয়ে আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। মহান বিজয় দিবসে আমি দেশবাসী সকলের প্রতি সেই আহবান জানাই।’ : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অপর এক বাণীতে বলেন, ‘মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আমি দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশি সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তাদের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ দিন। দীর্ঘ পরাধীনতার শৃৃঙ্খল ছিন্ন করে ১৯৭১ সালের এইদিনে আমরা প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হই। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে অর্জন করি স্বাধীনতা। এ স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা আত্মদান করেছেন, সেসব বীর শহীদের স্মৃতির প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। প্রিয় স্বদেশকে স্বাধীন করতে যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন আমি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’ : মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা আমাদের শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ অর্জন। গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম। সে লক্ষ্য পূরণে আমরা আজও কাজ করে যাচ্ছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবো বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিজয়ের এইদিনে আমি দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি।’ : মহান বিজয় দিবসে বিএনপির কর্মসূচি : মহান বিজয় দিবস এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ৬ ডিসেম্বর নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলÑ বিএনপির এক যৌথসভা শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেÑ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আগামী ১৯ ডিসেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে দুপুর ২টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার ভোরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে গমন ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর (উত্তর ও দক্ষিণ) বিএনপির উদ্যোগে আগামী ১৭ ডিসেম্বর একটি বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উক্ত র‌্যালিতে বিএনপির সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন অংশগ্রহণ করবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে পোস্টার প্রকাশ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো নিজস্ব আঙ্গিকে কর্মসূচি প্রণয়ন ও পালন করবে। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কর্তৃক মাসব্যাপী কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে রাজধানীতে আগামী আগামী ২৪ ডিসেম্বর ঢাকায় একটি বিশাল মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অনুরূপভাবে স্থানীয় সুবিধানুযায়ী মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সারাদেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি চেয়াপারসনের গুলশানস্থ কার্যালয় এবং নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় আলোকসজ্জায় সজ্জিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়গুলোতেও আলোকসজ্জা করার প্রস্তাব গৃহীত হয়।