রাজনীতিতে শেখ হাসিনার তিন যুগ, যেভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আ,লীগকে

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৭

রাজনীতিতে শেখ হাসিনার তিন যুগ, যেভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আ,লীগকে

ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান : ৭০ বছর পেরিয়ে ৭১-এ পা পড়েছে, জীবনের পড়ন্ত বেলা। দুর্দিন কাটিয়ে জীবনের এই শেষ বেলায় এতোটা সুদিন আসবে তা নিজে তো নয়ই, দলের নেতাকর্মীরাও কী কখনো ভেবেছিলেন! এরপরও আজ বাস্তবেই পরম সুদিন বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

শুধু শেখ হাসিনার জীবনেই নয়, বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবার জীবনেই আজ সুদিন, এমন কী দলও প্রতিষ্ঠার পর স্বর্ণযুগ পার করছে। চারদিকে সুখের হাতছানি, আশার আলো আর সম্ভাবনা।

তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

বাবার মৃত্যুর পর ভঙ্গুর ও বিভক্ত দলকেও সংগঠিত করে পরিণত করেছেন দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিশালী দলে। নেতৃত্বের জোরে ব্যক্তি শেখ হাসিনাও হয়েছেন বিশ্বের শক্তিধর নারী রাষ্ট্রনায়কদের একজন। নিজেকে গঠন করেছেন এক প্রাজ্ঞ ও কৌশলী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে। সন্তানদেরও গড়েছেন সেভাবে। তাদেরও সুনাম-সুখ্যাতি ছড়িয়েছে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও।

এই কৃতিত্বের জন্য শেখ হাসিনাকে অনেকে ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ অনেকে বাঙালি জাতির ‘শান্তির প্রতীক’ আবার অনেকে ‘মাদার অব হিউমিনিটি’ বলেও তাকে উপাধিতে ভূষিত করেছেন। যদিও এসব উপাধি নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের মধ্যে রয়েছে অনেক বিতর্ক। এরপরও সবমিলে শেখ হাসিনার এখন পরম সুদিন।

এই সুদিনে তার চারপাশে বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্খী ও গুণকীর্তনকারী লোকের অভাব নেই। মুজিব পরিবারে এমন সুদিন ফিরবে তা হয়তো অনেকেই কল্পনা করতেও পারেননি। তবে গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে ৭২-৭৫ কায়দায় শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং বিরোধী মত দমনে নিষ্ঠুর ভূমিকার জন্য বিরোধীদের দিক থেকে তার সমালোচনাও একেবারে কম নেই। বিরোধীদের মতে গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে শেখ হাসিনার শাসন তার বাবার বাকশালী শাসনকেও হার মানিয়েছে।

তবে এই সুদিনের আগে তাকেও অনেক দুর্দিনের কষ্ট-যন্ত্রনা পোহাতে হয়েছে। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বাবা-মা, ভাইসহ আপনজনদের হারিয়ে এতিম হয়েছেন সেই ২৮ বছর বয়সেই। এরপর আল্লাহর অসীম কৃপায় বেঁচে যাওয়া (জার্মানীতে থাকায়) একমাত্র বোন শেখ রেহেনাকে নিয়ে পথচলা শুরু। এরপর অনেকটা নিয়তির ডাকেই রাজনীতিতে আসেন শেখ হাসিনা। দলে বাবার শূন্যতা পূরণে দলীয় সভানেত্রী নির্বাচিত হয়ে নেতানেত্রীদের পীড়াপিড়িতেই সেই ১৯৮১ সালের ১৭ মে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন তিনি। হাল ধরেন বিভক্ত আওয়ামী লীগের। অনেকটাই ছন্নছাড়া দলের নেতাকর্মিদের সংগঠিত করে ধীর পায়ে এগুতে থাকেন আগামীর পথে।

বলা যায়, বর্তমান সময়টাই শেখ হাসিনার জীবনের ‘শ্রেষ্ঠতম মুহূর্ত’। আর এই সময়টা যদি শেখ হাসিনার জীবনের ‘শ্রেষ্ঠ সময়’ হয়ে থাকে তবে ৭৫ ও এর পরবর্তী সময় থেকে জেনারেল জিয়া, স্বৈরাচার এরশাদ এবং পরে বেগম খালেদা জিয়া ও মইন-ফখরুদ্দীন বিরোধী আন্দোলনের সময়গুলো ছিল তার জীবনের সবচেয়ে ‘অন্ধকার সময়’।

কারণ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভয়াল রাত্রিতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হলেও তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে থাকায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা। পরবর্তী ৬ বছর লন্ডন ও দিল্লিতে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয় তাদের দু’বোনকে। এরপর দেশে ফিরে ১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদের ক্ষমতায় আরোহনকে অবৈধ ঘোষণা করে এরশাদ বিরোধী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন শেখ হাসিনা।

১৯৮৩ সালে পনেরো দলের জোট গঠন করে তারই নেতৃত্বে দেশ জুড়ে সামরিক শাসক এরশাদ বিরোধী দুর্বার আন্দোলন গড়ে ওঠায় ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের ৩১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। চোখ বেঁধে তাকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আওয়ামী লীগের ভাষায় কৌশলগত কারণে ১৯৮৬ সংসদ নির্বাচনে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে গৃহে অন্তরীণ করা হয়।

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুরু হওয়া ৮ দলের মিছিলে জনতার ওপর পুলিশ ও বিডিআর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়। এরপরও তাকে দমাতে পারেনি। শান্তিপূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তরে ১৯৯০ সালে তিনি এক গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।

১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর আন্দোলনের জোয়ার ঠেকাতে সারা দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয় এবং শেখ হাসিনাকে ধানমন্ডির বাসায় গৃহবন্দি করা হয়। ৪ ডিসেম্বর জরুরি অবস্থা উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত জনসভায় ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। পরে অভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদ সরকারকে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। স্বৈরশাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি পায় বাংলাদেশ। পরে ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তিনি সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন।

এরপর খালেদা সরকার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৯৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা মিন্টো রোডের বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবন ত্যাগ করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন দাবিতে ২৮ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ থেকে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি বিরোধী দলের সদস্যরা একযোগে পদত্যাগ করেন। চলতে থাকে আন্দোলন। কিন্তু বিএনপি সরকার জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করলেও তার দল এবং জোট তা বর্জন করে। পরে বিএনপি সরকার সংবিধান সংশোধন করে একপর্যায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।

পরবতীর্তে ১৯৯৬, ১২ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এরপর ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আবারো সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান। এ সময় দলের পরীক্ষিতনেত্রী আইভি রহমানসহ আরো ২৪জন নেতাকর্মী মারা গেলেও বড় ধরনের কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি। সেই সাথে এই ভয়াবহ হামলার বিচারও পাননি। ফলে জীবনের কঠিন দুর্দিন এ এক অন্যরকম সময় পার করেছেন। সেটা যেন ৭৫ এর চেয়েও কোনো অংশে কম ছিল না।

সেই দুর্দিন কাটাতে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে ধীর পায়ে এগুতে থাকেন আগামীর পথে। পরে সেনা নিয়ন্ত্রিত ড. ফকরুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন প্যারোলো মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত কারান্তরীণ থাকেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তার দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয় এবং সরকার গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

বিরোধীদের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে গেল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। এরই মধ্যে বিরোধী জোটের গড়ে উঠা আন্দোলনও মোটামুটিভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছেন। গেল সিটি, জেলা-উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনেও নিজের পছন্দের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনেও সমূহ সম্ভাবনা দেখছেন। সবমিলেই এখন পরম সুদিন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনের পথ যে একেবারেই মসৃণ হবে তা বলার উপায় নেই। কেননা, উন্নয়নশীল দেশের রাজনীতি মূলতঃ অস্থিতিশীল, কখন কী ঘটে তা বলার উপায় নেই। এত সুদিনেও শেখ হাসিনার সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ অপেক্ষয়মান-

বিগত নির্বাচনে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের বিষয়টি কূটনীতিক দুনিয়া ভালভাবে দেখেনি। এক্ষেত্রে সামনে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেয়া ছাড়া তাদের সমর্থন আদায় কঠিন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফলে আগামী দিনে এই দেশি-বিদেশি চাপ সামলিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে পারাটাই শেখ হাসিনার সামনে একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

সরকার যাই বলুক না কেন, বিতর্কিত নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা যে দেশে-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই মুহূর্তে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা ফিরিয়ে আনাই শেখ হাসিনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সেই ২০০৯ সাল থেকেই হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা বিরোধী মত দমন করে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নির্বাসনে পাঠিয়েছে। এমন কী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের অনেকের অভিযোগ, দেশে এক ধরনের একদলীয় শাসন চলছে। অবশ্য তাদের এধরনের অভিযোগের স্বপক্ষে কিছু যৌক্তিক কারণ উত্থাপন করতে সক্ষমও হয়েছেন। যেমনটি বলা যায়- দেশের প্রধান বিরোধী শক্তিকে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করতে না দেয়া, বিরোধী জোটের নেত্রীকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং বিরোধ নেতাকর্মীদের উপর দমন নিপীড়নের অভিযোগ সরকার উড়িয়ে দিতে পারছে না। ফলে ভবিষ্যৎ সহনশীল রাজনীতির স্বার্থে দেশে একটি সুস্থ সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরেয়ে আনাই শেখ হাসিনা সরকারের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ দুটি নির্বাচনী ইশতিহারেই ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ার অঙ্গিকার করেছেন। কিন্তু সেটা করতে হলে যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন সেটা এখনো নিতে পারেনি সরকার, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বশেষ তথ্যে এমনটিই জানা গেছে। ফলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করাও শেখ হাসিনার সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা, বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক চাকা স্থবির হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে কর্মসংস্থানের অভাবে শিক্ষিত বেকারত্বের কষাঘাতে জর্জড়িত দেশ।

উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতি ও উন্নতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। বলা যায়- এটা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। সরকার সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, দুর্নীতি রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সরকারের সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। সরকারের বিগত পাঁচ বছরে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বিভিন্ন মন্ত্রী ও এমপিদের বিরুদ্ধে। বিগত নির্বাচনে জমা দেয়া হলফনামায় দেয়া তাদের সম্পদ বিবরণী থেকে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ নিয়ে সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে।

সমালোচনা হয়েছে বাইরেও। পাঁচ বছরে বহু গুণ সম্পদের মালিক হওয়া মন্ত্রী-এমপিদের কেউ কেউ নয়া মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। সামনে দুর্নীতি রোধ ও সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে আগামী দিনে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে হলে শেখ হাসিনাকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফলে এক্ষেত্রে তিনি কতটা সাহসী ভুমিকা নিতে পারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তৃতীয়বারের মতো শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর দলীয় নেতাকর্মীরা অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এলাকায় আধিপত্য, পদ-পদবী, টেন্ডার পাওয়া-ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, বিরোধীদের ওপর হামলা, হত্যা-খুন, নারী-শিশু নির্যাতন, যৌন কেলেঙ্কারী ইত্যাদি নিয়ে চলছে দলের ভেতর নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের অরাজকতা। ফলে এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করাও শেখ হাসিনার সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এদেরকে সময়মত নিয়ন্ত্রণ করে দলে শৃংখলা ফিরিয়ে না আনতে পারলে যে সামনে দিনে কঠিন মাশুল দিতে হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বর্তমানে রাজনীতিতে নতুন করে উচ্চারিত হচ্ছে গভীর ষড়ন্ত্রের কথা। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেছেন, ‘বিএনপি সরকারকে হটানোর ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি বলেছেন, সব জানি আমরা। কোথায়, কারা কারা যাচ্ছে, কী আলাপ হচ্ছে? লন্ডনের খবর, দুবাইয়ের খবর, ব্যাংককের খবর, কী কী শলা-পরামর্শ হচ্ছে, কোন কোন পথ খোঁজা হচ্ছে শেখ হাসিনার সরকারকে হটানোর জন্য। এইসব খবর এই তথ্য প্রবাহের যুগে গোপন থাকে না। সব আমরা জানি। কারা কারা এ ষড়যন্ত্রের কলকাঠি নাড়ছে, সব খবর আছে আমাদের কাছে।’ এছাড়াও অন্যান্য মন্ত্রী-এমপিদের মুখে একই কথা- শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে গভীর চক্রান্ত চলছে। এতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে বক্তৃতা-বিবৃতিতে সরগরম হলেও সবার চোখেমুখে কিছুটা আতঙ্কের ছাপ রয়েছে। সবমিলেই সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রাজনীতিতে টিকে থাকাটাও শেখ হাসিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ফলে দল নয়, রাষ্ট্রীয় পদে থেকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এখন বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এগুতে হবে। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আগামী দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন পথে হাটেঁন সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সামনের পথ যে একেবারেই মসৃণ হবে সেটা বলার উপায় নেই।