গোয়াইনঘাটে বন্যা : আমরা কুয়াই যাইতাম,আমরা কিলানখরি বাঁচি রইতাম

প্রকাশিত: ৬:৫৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৭

গোয়াইনঘাটে বন্যা : আমরা কুয়াই যাইতাম,আমরা কিলানখরি বাঁচি রইতাম

গোয়াইনঘাট থেকে মনজুর আহমদ : ‘গোলার (ঢল) ফানি আমরার হকল্তা ধুইয়া মুছিয়া লইয়া গেছে। আমরার এখন মাথা গোজাঁর ঠাঁই নাই, গরু-বাছুর’র খানি নাই। কেউ আমরার বায় ফিরিয়াও চায় না। আমরা কুয়াই যাইতাম? কিলান খরি বাচি রইতাম” এরকম আর্তনাদের স্বরে কথা বলছিলেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাও ইউনিয়নের সোনাপুর হাওর গ্রামের আরজদ আলী। তার মতো একই সুর, একই ভাষা গোয়াইনঘাটের নিম্নাঞ্চলে বাস করা হাজারো মানুষের কন্ঠে।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বন্যায় আক্রান্ত ঘরে ঘরে এখন শুধু হাহাকার। এখন আর ঘরে ঘরে পানি নাই কিন্তু বন্যার পানির খেটে খাওয়া এ নি¤œ আয়ের মানুষগুলোর জীবনযাপনকে ছিন্ন-বিচ্ছন্ন করে দিয়ে গেছে। পুরো উপজেলা ঘিরে রয়েছে হাওড়, বিল আর ছোট ছোট নদ-নদী। এখানকার বেশিরভাগ মানুষের বসতবাড়ী গড়ে উঠেছে হাওরের মাঝে মাঝে এবং নদীর তীরবর্তী স্থানে। গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের চারদিক ঘিরে রয়েছে হাওর।
উপজেলার আলীরগাঁও, ফতেহপুর ও পূর্বজাফলং ইউনিয়নের কিছু ভূমি উচু বাকি সব ক’টি এলাকা হাওড় বা নিম্নাঞ্চল। বন্যার কারনে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এসব নিম্নাঞ্চলের মানুষ গুলো। এসব এলাকায় যারা বাস করে তদের অধিকাংশের বসতঘর বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরী ও ছনের ছাউনি। বন্যার পানিতে এসব বিটা কয়েকদিন তলিয়ে থাকার ফলে মাটি গলে নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরের কাঁথা-বালিশসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যা আক্রান্ত ঘরগুলো প্রায় বাসকরার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাটির রাস্তা গুলোও স্থানে স্থানে ভেঙ্গে গেছে। এসব এলাকার মানুষের জীবন যাপনে মারাত্মক ভাবে বেগ পেতে হচ্ছে। তাদের সাধারণ জীবনযাত্রা নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবেশগত বিড়ম্বনার পাশাপাশি রয়েছে ঘরে ঘরে খাদ্যাভাব। বেশ ক’দিন ধরে পাথর কোয়ারীগুলো বন্ধ থাকায় শ্রমিক আর মজুরদের ঘরে এখন হাহাকার। সপ্তাহ ধরে পানিতে তলিয়ে থাকার ফলে হাওর অঞ্চলে গোচারণভূমি নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে গোবাদি পশুর খাদ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এসব এলাকার বন্যা আক্রান্ত মানুষের পূনর্বাসনের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রান সহায়তাও পায়নি এ হাওর এলাকার পরিবারগুলো।
বসতবাড়ি বা লোকালয় থেকে পানি নেমে গেলও উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ফসলী জমিতে এখনো রয়েছে বন্যার পানি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানিতে তলিয়ে থাকা রোপা আমন ধান পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে পানি নষ্ট হয়ে গেছে এবং সে পানি বিলের পানির সাথে মিশে যাওয়ায় প্রতিদিন মাছ মরে গিয়ে পঁচে ফুলে ভেসে উঠছে। এয়াড়া বীজতলার প্রচুর পরিমান হালিচারা নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার কারনে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কগুলোর পিচ ও ব্রীজের এ্যাপ্রোচ ভেঙ্গে গেছে ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশ-বিদেশ থেকে বেড়াতে আসা পর্যটকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট