১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৭
শরীফ আহমদ, দক্ষিণ সুরমা : দক্ষিণ সুরমায় বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে ডায়রিয়া-আমাশয়, জ্বর-সর্দি ও চর্মরোগের মতো পানিবাহিত নানা রোগ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গত এলাকার শত শত মানুষ ভাইরাসজনিত নানা রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।
কিছুটা পানি কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগ। গ্রামীন রাস্তাঘাট থেকে পানি সরে যাওয়ার সাথে সাথে সৃষ্টি হচ্ছে কাদার। তাছাড়া পাকা রাস্তাগুলোর উপর থেকে পানি সরে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে রাস্তা থেকে গালা সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। কাঁচা ঘরবাড়ী থেকে পানি সরে যাওয়ার ফলে মাটির বেড়ার ঘর ধ্বসে পড়ছে।
ফলে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঘরবাড়ীতে বসবাস করছেন। সামান্য পরিমাণ পানি কমলেও এখনও অনেকের ঘরবাড়ী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে পানি। বিশেষ করে দাউদপুর ইউনিয়নের ইনাতআলীপুর, মীর্জানগর, রাউতকান্দি সিকন্দরপুর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও রয়েছে পানিতে আংশিক নিমজ্জিত।
উপজেলার দাউদপুর, মোগলাবাজার ও জালালপুর ইউনিয়নের বন্যার্ত মানুষের হাহাকার এখনও থামছে না। তবে সরকারী ও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অব্যাহত রয়েছে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম। বন্যা দূর্গত এলাকায় এখনো পর্যন্ত কোন মেডিকেল টিম যায়নি। তবে এনজিও সংস্থাগুলো বন্যা দূর্গত এলাকায় ফ্রি মেডিকেল সেবা দিয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহমদ জায়গীর জানান, দূর্গত এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বন্যা দুর্গত এলাকায় সরকারী টিম পৌছায়নি। যারা পানিবাহিত রোগে ভুগছেন তাদেরকে তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকে যোগাযোগের জন্য আহ্বান জানান।
এ ত্রাণ সামগ্রী কিছুটা হলেও তাদের দুর্ভোগ লাঘব হচ্ছে। বন্যার পানি কমার সাথে সাথে বন্যার্ত এ অঞ্চলগুলোর কয়েকটি গ্রামে দেখা দিয়েছে জ¦র ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব। দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টিম প্রতিনিয়ত এসব এলাকায় তাদের টিম নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। তবে প্রয়োজনের তুলনা ঔষধ সামগ্রী খুবই কম।
উপজেলার বন্যার্ত এই তিন ইউনিয়নের দরিদ্র-অসহায় কৃষকরা আউশ ফসল হারিয়ে পড়েছেন সংকটে। মাঝে মাঝে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়াতে খেটে খাওয়া মানুষ অন্যের বাড়ীতে গিয়ে কাজ করতে পারছেন না। এতে করে তাদের মাঝে নেমে এসেছে চরম হতাশা। বিশেষ করে দরিদ্র ও দিনমজুর যাদের ঘরবাড়ী কাঁচা পানি কমার সাথে সাথে ঘরের কাঁচা মাটির বেড়া ধ্বসে পড়ছে।
এসব মানুষ তিন বেলা খেতে পারছেন না এবং ধ্বসে পড়া কাঁচা বেড়া নির্মাণ করবে কিভাবে এ নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো বেশী করে তাদের সাহায্যে এগিয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এ অঞ্চলের মানুষ।
এ ব্যাপারে কমিউনিটি ক্লিনিকের সংগঠনের সিএসপি সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান, বন্যা দুর্গত এলাকার পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য স্যালাইন ও শিশু রোগের ঔষধ সরবরাহের জন্য মওজুদ আছে। পানি কমার আগ পর্যন্ত এ চিকিৎসা সেবা অব্যাহত থাকবে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D