বাবার বাড়ি থেকে নাশতা কম দেওয়ায় মারধরে গৃহবধূর মৃত্যু, শাশুড়ি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

বাবার বাড়ি থেকে নাশতা কম দেওয়ায় মারধরে গৃহবধূর মৃত্যু, শাশুড়ি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের পটিয়ায় নাশতা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নির্যাতনের পর মারা যাওয়া গৃহবধূ সিফাতুন নূর মীমের (২০) মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় তাঁর শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে (৬৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় মীমের স্বামী ও দুই ননদকেও আসামি করা হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) মীমের বাবা মোহাম্মদ নূরের অভিযোগের ভিত্তিতে পটিয়া থানায় মামলাটি করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৬ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রিজিয়া বেগম মামলার এক নম্বর আসামি। অন্য আসামিরা হলেন মীমের স্বামী মোহাম্মদ তারেক (২৬) এবং দুই ননদ সুমি আক্তার (৩৮) ও রাশেদা বেগম (৪৩)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে তারেকের সঙ্গে মীমের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাস পর তারেক বিদেশে চলে যান। এরপর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মীমের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় মীমের মা জহিনুর আক্তার বিভিন্ন ধরনের নাশতা তৈরি করে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। নাশতার পরিমাণ কম হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে রিজিয়া বেগম ও দুই ননদ তাঁকে গালিগালাজ ও অপমান করেন। এ নিয়ে মীম ও তাঁর মায়ের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই তিনজন মীমকে মারধর করেন এবং তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, বিষয়টি মীম তাঁর স্বামীকে মুঠোফোনে জানালে তিনিও তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং আত্মহত্যা করতে বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইলিয়াছ খাঁর বাড়িতে নিজের শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মীম। পরে শাশুড়ি ও প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৩ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হকের নেতৃত্বে উপপরিদর্শক মো. মোশারফ হোসেন মামলা দায়েরের আগে রিজিয়া বেগমকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪(৩) ধারায় গ্রেপ্তার করেন। পরে মীমের বাবার এজাহারের ভিত্তিতে রোববার নিয়মিত মামলা করা হয়।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক জানান, মামলা রুজুর আগে রিজিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট