জনবলসংকটে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

জনবলসংকটে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

করোনা মহামারির পর হামের প্রাদুর্ভাবকালে সিলেটের মানুষের অন্যতম ভরসা শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল। তবে জনবলসংকট, পর্যাপ্ত রোগনির্ণয় ব্যবস্থা না থাকা এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা চলছে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে। ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন প্রায় ৯০০ রোগী। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাঁদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
অন্যদিকে, এক দশক আগে হাসপাতালটিকে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তির অন্যতম কারণ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সীমিত সুযোগ। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর রোগনির্ণয়ের জন্য অনেককেই হাসপাতালের বাইরে যেতে হয়। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি চিকিৎসা গ্রহণেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।

চিকিৎসক-নার্সসহ একাধিক পদ শূন্য
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সের পাশাপাশি রোগনির্ণয় কার্যক্রমেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা। এক্স-রে ছাড়া অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের নির্ভর করতে হচ্ছে বাইরের প্রতিষ্ঠানের ওপর।

হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের দুটি ও নার্সের ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের চারটি পদের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে খালি। দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি অচল। এ ছাড়া চালকের দুটি পদের মধ্যে একটি শূন্য রয়েছে।

প্রতিদিন বহির্বিভাগে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে সীমিত জনবল ও চিকিৎসাসুবিধার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবলের অভাবে রোগীদের একাংশকে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

তত্ত্বাবধায়কের পদও শূন্য
চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি হাসপাতালটির প্রশাসনিক কার্যক্রমেও রয়েছে জটিলতা। দীর্ঘদিন ধরে তত্ত্বাবধায়কের পদ শূন্য থাকায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে বেগ পেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্রের কাজ করতে হচ্ছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান বলেন, ‘চিকিৎসক ও নার্সরা প্রতিদিন দুই শিফটে কাজ করছেন। জনবলসংকটের কারণে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে সিলেট অঞ্চলের চিকিৎসাসেবায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

এক দশকেও চালু হয়নি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল
শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১৪ সালে। ২০১৫ সালে হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালটিকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় বরাদ্দের টাকা ফেরত যায়। এক দশক পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়িত হয়নি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়া, জনবলসংকট এবং গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় হাসপাতালটিকে করোনা ডেডিকেটেড ঘোষণা করা হলে শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ আরও পিছিয়ে যায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর জন্য পদ সৃষ্টি ও জনবল নিয়োগের বিষয়ে ২০১৫-১৬ সালে চার দফায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে এরপরও কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দীন বলেন, শিশু হাসপাতাল চালুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন হাসপাতাল চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের।

প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসার চাপ, প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি এবং রোগনির্ণয়ের সীমিত সুযোগের মধ্যে চলছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধি এবং বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট