|
প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। দাবি বাস্তবায়নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্দোলনের তৃতীয় দিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহাদ ফয়সল ও তানভীর মাহমুদ।
শিক্ষার্থীরা বলেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা, একাডেমিক পরিবেশ ও পেশাগত মানোন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষায় বিদ্যমান দ্বৈত প্রশাসন ও দীর্ঘদিনের বৈষম্যের কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করাই শিক্ষার্থীদের মূল দাবি। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ আন্দোলন, আমরণ অনশন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পর ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট শিক্ষা উপদেষ্টার নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা, ক্যাম্পাস পরিদর্শন ও বিভিন্ন পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি একটি সুপারিশভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি ওই সুপারিশ নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের সভায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, সাস্ট’ হিসেবে গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এখনো সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
সম্প্রতি কলেজের একটি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের একাডেমিক ও গবেষণার পটভূমি ওই পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর প্রতিবাদে গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন। ওই সময় প্রশাসনিক ভবনে অবস্থানরত শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে মানবিক দিক বিবেচনায় সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষকদের মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী তানভীর মাহমুদ বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষকদের প্রশাসনিক ভবন থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা ক্যাম্পাসেই অবস্থান করছেন।’
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষক ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন। তাদের কেউ লাইব্রেরিতে, আবার কেউ গেস্ট হাউসে অবস্থান করছেন।
তানভীর মাহমুদ বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে শিক্ষার্থীরা নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করলেও সেই অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে সান্ধ্যকালীন প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা করা একজনকে এনে বিভাগীয় প্রধান করা হয়েছে। আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে।’

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D