|
প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
স্বপ্নের ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণের জন্য জমি দিয়েছেন। সরকারের আশ্বাসে মালিকানাধীন ভূমি ও স্থাপনা ছেড়ে দিয়েছেন জনস্বার্থে। অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে প্রয়োজনীয় দলিলপত্রও জমা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। কিন্তু জমি দেওয়ার পর সেই ক্ষতিপূরণের টাকা পেতেই এখন এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘুরতে হচ্ছে ভূমিমালিকদের।
শুধু তাই নয়, ভূমিমালিকদের অভিযোগ, বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে অধিগ্রহণ করা জমির জন্য। নির্ধারিত সেই অর্থও একবারে নয়, তিন কিস্তিতে দেওয়ার কথা। প্রথম কিস্তির টাকা তুলতেও নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
এমন অভিযোগে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ফরিদপুর, তাজমহরমপুর, রশিদপুর ও আরদিলপুর-এই চার মৌজার ভূমিমালিকরা মানববন্ধন করেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের রশিদপুর পয়েন্টে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভূমিমালিকরা জানান, ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হওয়ার পর সড়ক প্রশস্ত করতে আশপাশের বিভিন্ন মৌজার ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও স্থাপনা অধিগ্রহণ করে সরকার। জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশ্বাসে তাঁরা নিজেদের জমি সরকারকে দিয়েছেন।
অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের মালিকানা দলিল, এসএ ও বিএস পর্চা, নামজারিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, পাঁচ লাখ টাকা মূল্যমানের জমির ক্ষেত্রে কোথাও শতকপ্রতি মাত্র ২৫ হাজার টাকা, আবার কোথাও ২২ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অর্থও তিন কিস্তিতে দেওয়ার কথা। ফলে ২৫ হাজার টাকা হারে নির্ধারিত জমির মালিকেরা তিন কিস্তিতে মোট ৭৫ হাজার টাকা এবং ২২ হাজার টাকা হারে নির্ধারিত জমির মালিকেরা মোট ৬৬ হাজার টাকা পাবেন।
ভূমিমালিকদের ভাষ্য, ক্ষতিপূরণের নির্ধারিত অর্থ কম হলেও তাঁরা তা মেনে নিয়েছেন। তাঁদের মূল দাবি এখন নির্ধারিত টাকা যেন দ্রুত ও হয়রানি ছাড়া বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘স্বপ্নের ছয় লেন সড়কের জন্য আমরা আমাদের মালিকানাধীন জমি ছেড়ে দিয়েছি। জনস্বার্থে জমি দিতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের প্রাপ্য টাকা পেতে কেন দিনের পর দিন এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ঘুরতে হবে?’
ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ জানান, অধিগ্রহণের টাকা পাওয়ার আশায় বিদেশে থাকা প্রবাসীরাও দেশে ফিরেছেন। টাকা পাওয়ার প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের দেশে অবস্থান করতে হচ্ছে। অথচ নানা দপ্তরে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান মিলছে না বলে তাঁদের অভিযোগ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের প্রাপ্য টাকাগুলো সময়মতো পেয়ে যেতাম, তাহলে আজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আন্দোলন করতে হতো না। জমি ছেড়ে দেওয়ার পর ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে হয়রানি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
তাঁরা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই ভূমি অধিগ্রহণের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের দাবি জানান। অন্যথায় ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভুক্তভোগী হাজী দয়াল উদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং যুবক রফিক আলীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী শেখ মোহাম্মদ আজাদ, প্রবাসী আব্দুল মান্নান, হিরণ মিয়া, ময়নুল খান, আব্দুল খালিক ও আরজুমন্দ আলী।
এ সময় চার মৌজার প্রায় অর্ধশত ভূমিমালিক মানববন্ধনে অংশ নেন।
ভূমিমালিকদের দাবি, উন্নয়নের স্বার্থে তাঁরা তাঁদের জমি ছেড়ে দিয়েছেন। এখন তাঁদের প্রত্যাশা- সরকারি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ পেতে যেন আর হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার হতে না হয়।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D