সুনামগঞ্জে নির্বাচন অফিসের কর্মচারী ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে আটক

প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

সুনামগঞ্জে নির্বাচন অফিসের কর্মচারী ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে আটক

অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মচারীকে আটক করেছে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে হবিগঞ্জের শ্রীমঙ্গল সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক সুশান্ত চন্দ্র বিশ্বাস (৩৪) কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার সাচাইল গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম সত্যেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কর্মরত বলে জানিয়েছে বিজিবি।

৫৫ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে রোববার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে গুটিবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মোংলামবস্তি চা বাগানে টহল পরিচালনা করছিল বিজিবির একটি দল।

এ সময় সীমান্ত পিলার ১৯৩৯/এম-এর কাছাকাছি শূন্যরেখা অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় সুশান্ত চন্দ্র বিশ্বাসকে আটক করা হয়।

বিজিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সুশান্ত চন্দ্র বিশ্বাস ২০১৬ সাল থেকে নির্বাচন অফিসে চুক্তিভিত্তিকভাবে কর্মরত। বর্তমানে তিনি জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বিজিবির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, তিনি প্রায় এক মাস ধরে কোনো অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তার বিষয়ে খোঁজখবরও নেওয়া হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক সুশান্ত বিজিবিকে জানান, গত বৃহস্পতিবার তিনি শ্রীমঙ্গলে আসেন এবং সেখানে একটি হোটেলে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে একজন দালালের সহায়তায় সুবিধাজনক সময়ে সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন বলে বিজিবির কাছে তিনি স্বীকার করেছেন।

এ সময় তার কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, নগদ ১২ হাজার ১৮৫ টাকা, তার নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ছয়টি বিভিন্ন ধরনের পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত দাপ্তরিক সিল এবং ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

একই ব্যক্তির নামে দুটি এনআইডি ও একাধিক পরিচয়পত্র থাকার বিষয়টিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছে। এসব পরিচয়পত্রের বৈধতা, ব্যবহারের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনসহ ডিজিটাল তথ্য ও অন্যান্য নথিপত্রও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তির সীমান্ত অতিক্রমের উদ্দেশ্য, তাকে ভারতে প্রবেশে সহায়তাকারী কথিত দালালের পরিচয় এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কি না এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগে আটক সুশান্ত চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট